গাজা উপত্যকায় আটক ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি নিয়ে অবশেষে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এলো। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামীকাল ১৩ অক্টোবর থেকে হামাস জিম্মিদের মুক্তি দিতে শুরু করবে। এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন এক রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় আটক ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তির প্রক্রিয়া আগামীকাল ১৩ অক্টোবর, সোমবার থেকে শুরু হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
ট্রাম্প জানান, বর্তমানে গাজায় ২০ জনের বেশি ইসরায়েলি জিম্মি জীবিত অবস্থায় রয়েছেন এবং আরও ২৮ জনের মৃতদেহ হামাসের কাছে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, হামাস শুধু জীবিত জিম্মিদের নয়, মৃতদের দেহাবশেষও হস্তান্তর করবে। একই সঙ্গে ইসরায়েল তার কারাগারে বন্দি ২ হাজার ফিলিস্তিনি নাগরিককে মুক্তি দেবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তবে এই বিনিময় প্রক্রিয়া একদিনে সম্পন্ন হবে নাকি কয়েক ধাপে ঘটবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ট্রাম্প বলেন, “আমি শুনেছি, এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ শুরু হয়ে গেছে। গাজায় গত দুই বছরে যা ঘটেছে, তা এক বিশাল মানবিক ট্র্যাজেডি।”
গত ২৯ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসে গাজা যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত একটি নতুন পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ইসরায়েল ও গাজা নিয়ন্ত্রণকারী হামাস উভয়ই সেই পরিকল্পনায় সম্মতি জানায়। এর পর ১০ অক্টোবর, শুক্রবার ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে।
যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর ট্রাম্পের প্রস্তাব অনুযায়ী গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারও শুরু করে ইসরায়েল। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সমঝোতা কেবল জিম্মি বিনিময়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়—বরং এটি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কূটনৈতিক সম্পর্কের সূচনা ঘটাতে পারে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ইসরায়েলের ভূখণ্ডে ঢুকে সন্ত্রাসী হামলা চালায়, যাতে অন্তত ১,২০০ জন নিহত এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। ইসরায়েলের ইতিহাসে এটি ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা।
এরপর ৮ অক্টোবর থেকে ইসরায়েল গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে, যার ফলে এখন পর্যন্ত ৬৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার আহত হয়েছেন। যুদ্ধের ভয়াবহতা ও মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে আন্তর্জাতিকভাবে বহুবার যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নেয়া হলেও তা ব্যর্থ হয়।
সবশেষে ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া এই চুক্তিই গাজা সংঘাতের সমাপ্তির পথে বড় পদক্ষেপ হতে পারে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক মহল। এখন বিশ্বজুড়ে নজর এই মুক্তি প্রক্রিয়ার দিকে—যেখানে মানবিকতা, রাজনীতি এবং আঞ্চলিক ক্ষমতার ভারসাম্য নতুন করে পরীক্ষা দেবে।