মন্দির থেকে গু লি চু'রি: ওসি প্রত্যাহার, ৭ পুলিশ বরখাস্ত | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

মন্দির থেকে গু লি চু'রি: ওসি প্রত্যাহার, ৭ পুলিশ বরখাস্ত

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
মন্দির থেকে গু লি চু'রি: ওসি প্রত্যাহার, ৭ পুলিশ বরখাস্ত
মন্দির থেকে গু লি চু'রি: ওসি প্রত্যাহার, ৭ পুলিশ বরখাস্ত
ছবি: সংগৃহীত
In a shocking incident, bullets and valuables were stolen from police quarters at a temple in Dhaka’s Badda, leading to the withdrawal of the OC and suspension of seven officers.

রাজধানীর বাড্ডার নিমতলির শ্রী শ্রী মহাদেব আশ্রম ও কালী মন্দির থেকে ডিউটিরত পুলিশের কক্ষ থেকে গুলি ও মালামাল চুরির ঘটনায় ওসিকে প্রত্যাহার এবং ৭ পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

রাজধানীর বাড্ডার নিমতলির শ্রী শ্রী মহাদেব আশ্রম ও কালী মন্দিরে ঘটে যাওয়া গুলি চুরির ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম শিথিলতার অভিযোগে বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে এক উপপরিদর্শক (এসআই), এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) এবং পাঁচ কনস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) একাধিক সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করে। গুলশান বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. তারেক মাহমুদ জানান, কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এই কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “চুরি হওয়া গুলি ও মালামাল উদ্ধার হলেও দায়িত্বে অবহেলা কোনোভাবেই ক্ষমাযোগ্য নয়। বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সূত্রে জানা যায়, ডিউটিরত পুলিশ সদস্যদের থাকার জন্য মন্দিরের প্রাচীরঘেরা এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের কক্ষ ব্যবহার করা হচ্ছিল। মঙ্গলবার ভোর রাত সাড়ে ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে যখন পুলিশ ও আনসারের সদস্যরা ঘুমিয়ে ছিলেন, তখন অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা প্রবেশ করে তাদের চারটি ব্যাগ, দুটি মানিব্যাগ ও তিনটি মোবাইল ফোন চুরি করে নিয়ে যায়। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ওই ব্যাগগুলোর একটিতে ৩০ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছিল।

পরে সকাল পৌনে ১০টার দিকে মন্দির সংলগ্ন পতিত জমি থেকে ব্যাগগুলো উদ্ধার করা হয়। ব্যাগের ভেতর গুলি অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেলেও এই ঘটনা পুলিশের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পরপরই পুলিশ তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় নিয়ে যায়। তবে কারা আসলেই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে, দায়িত্বে অবহেলা ও গাফিলতির কারণে উচ্চপর্যায়ের কর্তৃপক্ষ ক্ষুব্ধ হয়েছেন। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে ডিউটিতে নিয়োজিত সদস্যদের দায়িত্ব পালনে আরও কড়াকড়ি আরোপ করা হবে।

এই ঘটনার জেরে স্থানীয় জনগণ ও মন্দির কর্তৃপক্ষও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। মন্দিরের এক দায়িত্বশীল সদস্য জানান, “এখানে পুলিশের উপস্থিতিই আমাদের ভরসা ছিল। অথচ তাদের ঘর থেকেই যদি গুলি চুরি হয়, তবে আমরা কীভাবে নিরাপদ থাকব?”

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই ঘটনার গভীর তদন্ত এবং দায়ীদের শাস্তির পাশাপাশি নিরাপত্তা জোরদারের ওপর জোর দেওয়া উচিত।

এই ঘটনায় পুলিশ সদর দপ্তরও নড়েচড়ে বসেছে। শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অবহেলার দায়ে নেওয়া এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ভবিষ্যতে অন্যদের জন্যও সতর্কবার্তা হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন অনেকে।

לא נמצאו הערות


News Card Generator