জাতির সঙ্গে প্রতারণা? সরকারের সুরে আপোসের গন্ধ! | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

জাতির সঙ্গে প্রতারণা? সরকারের সুরে আপোসের গন্ধ!

Abdullah Al Mamun avatar   
Abdullah Al Mamun
জাতির সঙ্গে প্রতারণা? সরকারের সুরে আপোসের গন্ধ!
জাতির সঙ্গে প্রতারণা? সরকারের সুরে আপোসের গন্ধ!
ছবি: সংগৃহীত
যে শক্তিকে জনগণ রক্তের বিনিময়ে ক্ষমতাচ্যুত করলো, তাদেরই ফিরিয়ে আনার গোপন ষড়যন্ত্র নয়তো?..

এক বছর পেরিয়ে গেছে সেই রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের, যার মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণ নিজেদের ভাগ্য নতুন করে লেখার শপথ নিয়েছিল। গুম, খুন, নির্যাতন আর সীমাহীন দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করে জাতি যখন একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছিল, ঠিক তখনই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার এক মন্তব্য গোটা জাতিকে হতবাক ও ক্ষুব্ধ করেছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ড. মুহাম্মদ ইউনূস যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা কেবল হতাশাজনকই নয়, বরং গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের রক্তের সঙ্গে এক চরম বিশ্বাসঘাতকতা। তিনি বলেছেন, "আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হয়নি, তাদের কার্যক্রম কেবল সাময়িকভাবে স্থগিত। যেকোনো সময় তা পুনরায় সচল হতে পারে।"

এই বক্তব্যের প্রতিটি শব্দ যেন জনগণের ক্ষতের উপর লবণ ছিটিয়ে দেওয়ার শামিল। জাতি জানতে চায়, এই "সাময়িক" শব্দটির অর্থ কী? এর পরিধি কতদূর? যে দলকে দেশের মানুষ 'গণহত্যার' দায়ে অভিযুক্ত করছে, যাদের শাসনামলে হাজারো তরুণের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হয়েছে, যাদের অত্যাচারে একটি প্রজন্ম পঙ্গুত্ব বরণ করেছে, তাদের কার্যক্রম "যেকোনো সময় সচল" হওয়ার অর্থ কী? এটি কি সেই অপশক্তিকে পুনরায় রাজনীতিতে পুনর্বাসনের একটি নির্লজ্জ পায়তারা নয়?

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেছেন, আওয়ামী লীগের সমর্থকরা ভোট দিতে পারবে, কেবল তাদের প্রতীক থাকবে না। কী অদ্ভুত যুক্তি! যে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত কর্মীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ, সেই দলের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে টিকিয়ে রাখার এই চেষ্টা কেন? এটি কি নেপথ্যে কোনো গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দেয় না? জনগণ কি তাহলে ধরে নেবে যে, পর্দার আড়ালে ক্ষমতাচ্যুত শক্তির সঙ্গে কোনো গোপন আঁতাত চলছে?

এক বছরের বেশি সময় পার হলেও আওয়ামী দুঃশাসনের সময় সংঘটিত একটি হত্যাকাণ্ডেরও বিচার হয়নি। গুম হওয়া সন্তানদের অপেক্ষায় এখনো হাজারো মায়ের চোখ অশ্রুসিক্ত। সেই বিচার প্রক্রিয়া শুরু না করে, খুনিদের দায়মুক্তি দিয়ে তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম পুনরায় চালুর আশ্বাস দেওয়াটা জাতির জন্য চরম লজ্জাজনক। এই সরকার কি জনগণের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত পরিবর্তনকে বিসর্জন দিয়ে পুরনো স্বৈরাচারী শক্তির সঙ্গে আপোস করতে চাইছে?

যে জাতিকে বলা হয়েছিল ফ্যাসিবাদী শক্তির পতন হয়েছে, আজ তাদেরকেই শোনানো হচ্ছে সেই ফ্যাসিবাদীরা যেকোনো সময় ফিরে আসতে পারে। এটি একটি জাতির চেতনার সঙ্গে নির্মম পরিহাস। যে শক্তিকে জনগণ ক্ষমতার মসনদ থেকে আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করেছে, সেই শক্তিকে ফিরিয়ে আনার পথ প্রশস্ত করার অধিকার এই সরকারকে কেউ দেয়নি।

আজ সময় এসেছে প্রশ্ন করার, এই সরকার কার স্বার্থে কাজ করছে? জনগণের নাকি ক্ষমতাচ্যুত ঘাতকদের? ড. ইউনূসের এই বক্তব্য যদি সরকারের সম্মিলিত অবস্থান হয়, তবে এটি স্পষ্ট যে, এই সরকার গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। জনগণের এখন চুপ করে থাকার সময় নয়। এই আপোসকামিতার বিরুদ্ধে আবারও গর্জে উঠতে হবে, নতুবা শহীদদের আত্মত্যাগ বৃথা যাবে এবং বাংলাদেশ আবারও এক অন্ধকার যুগে প্রবেশ করবে।

এই "আপোসের সুর" কিসের গন্ধ বহন করছে, তা জাতি জানতে চায় এবং এর শেষ দেখতে চায়।

Walang nakitang komento


News Card Generator