ব্যাখ্যা দিয়ে এবি পার্টি ছাড়লেন সোলায়মান চৌধুরী | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

ব্যাখ্যা দিয়ে এবি পার্টি ছাড়লেন সোলায়মান চৌধুরী

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
ব্যাখ্যা দিয়ে এবি পার্টি ছাড়লেন সোলায়মান চৌধুরী
ব্যাখ্যা দিয়ে এবি পার্টি ছাড়লেন সোলায়মান চৌধুরী
ছবি: সংগৃহীত
AFM Solaiman Chowdhury, founder of AB Party, has resigned, citing the party’s deviation from its core mission. He announced his return to Jamaat-e-Islami after formal discussions with its leadership...

এবি পার্টির প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক ও সাবেক সচিব এ এফ এম সোলায়মান চৌধুরী পদত্যাগ করেছেন। দীর্ঘ ব্যাখ্যায় তিনি জানিয়েছেন, এবি পার্টি মূল লক্ষ্য থেকে সরে গেছে, তাই তিনি আবার জামায়াতে ইসলামীতে ফিরছেন।

এবি পার্টির প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক ও সাবেক সচিব এ এফ এম সোলায়মান চৌধুরীর পদত্যাগে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি দীর্ঘ ব্যাখ্যায় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এবি পার্টি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন এবং জানান, তিনি আবারও তার পুরনো রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিচ্ছেন।

সোলায়মান চৌধুরী স্মৃতিচারণ করে বলেন, ২০২০ সালের ২ মে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারকে মূলনীতি ধরে এবি পার্টি আত্মপ্রকাশ করে। সেই সময় দেশের ৫৩টি জেলা এবং ৩০০টি উপজেলায় সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলা হয়। নিবন্ধনের জন্য নির্বাচন কমিশনে আবেদন করা হলেও আওয়ামী লীগ সরকারের চাপ এবং কমিশনের দুর্বলতার কারণে অনুমোদন দেওয়া হয়নি। যদিও পরবর্তীতে ৫ আগস্ট-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দলটির নিবন্ধন অনুমোদিত হয় এবং আনুষ্ঠানিক প্রতীক বরাদ্দ করা হয়।

এরপর অনুষ্ঠিত হয় দলের কাউন্সিল, যেখানে মজিবুর রহমান মঞ্জু দলীয় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। একটি নতুন কমিটি আত্মপ্রকাশ করে এবং দেশের তৃণমূল পর্যায়ে দলীয় কর্মকাণ্ড বিস্তারের প্রত্যয় ঘোষণা করে। কিন্তু সোলায়মান চৌধুরীর মতে, সেই অঙ্গীকার আজ ভেস্তে গেছে।

তিনি অভিযোগ করেন, এবি পার্টি এখন ঢাকা-কেন্দ্রিক একটি রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় জনগণের সম্পৃক্ততা নেই, বরং অনেক নেতা পদত্যাগ করছেন। “আমরা ভেবেছিলাম এবি পার্টি মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেবে, সমস্যার সমাধান করবে। কিন্তু দলটি এখন সে লক্ষ্য থেকে অনেক দূরে সরে গেছে,” বলেন তিনি।

সোলায়মানের অভিযোগ, তাকে নামমাত্র উপদেষ্টার পদে রাখা হয়েছে। “যদি কারও উপদেশ চাওয়া না হয়, তবে সে কীভাবে উপদেশ দেবে? এই অবস্থায় আর দলের সঙ্গে থাকা আমার কাছে অর্থহীন মনে হয়েছে।” তিনি জানান, এবি পার্টির চেয়ারম্যানকে ইতিমধ্যে লিখিতভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

নিজের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনা স্পষ্ট করে তিনি বলেন, “আমি নতুন কোনো দলে যাচ্ছি না। বরং আমার পুরনো দল জামায়াতে ইসলামীতে ফিরছি। জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে আমার আলোচনা হয়েছে। তিনি আমাকে স্বাগত জানিয়েছেন।” সোলায়মান আরও জানান, তিনি আল্লাহর নামে শপথ করে আমিরের সামনে ঘোষণা দিয়েছেন যে, তিনি আবার জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেবেন। এখন শুধু লিখিত আনুষ্ঠানিকতা বাকি রয়েছে।

এবি পার্টি থেকে পদত্যাগের ঘোষণার পরপরই তিনি সরাসরি জামায়াতে ইসলামীর আমিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে বসুন্ধরায় যান। সেখানে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সোলায়মানের এই সিদ্ধান্তকে অনেক বিশ্লেষক বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন। এবি পার্টির প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক যখনই দল থেকে সরে গিয়ে আবার জামায়াতে ইসলামীতে ফেরার ঘোষণা দিলেন, তখন দলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক টিকে থাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

সোলায়মান চৌধুরীর ভাষায়, “আমরা চাই সম্মিলিতভাবে এ দেশের সাধারণ মানুষের সমস্যার সমাধান করতে, মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিতে এবং বাংলাদেশকে একটি সুন্দর ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রে পরিণত করতে। জামায়াতে ইসলামী সেই সংগ্রামের পথেই রয়েছে, তাই আমি আবার তাদের সঙ্গেই পথ চলতে চাই।”

রাজনৈতিক অঙ্গনের অনেকেই মনে করছেন, সোলায়মানের পদত্যাগ এবি পার্টির সাংগঠনিক দুর্বলতাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। একইসঙ্গে এটি জামায়াতে ইসলামীকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে, কারণ একজন অভিজ্ঞ সংগঠক আবার দলে ফিরে আসছেন।

Geen reacties gevonden


News Card Generator