দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হতে পারে পরাজিত শক্তি : রাশেদ খান.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হতে পারে পরাজিত শক্তি : রাশেদ খান..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হতে পারে পরাজিত শক্তি : রাশেদ খান..
দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হতে পারে পরাজিত শক্তি : রাশেদ খান..
ছবি: সংগৃহীত
Rashed Khan, General Secretary of Gono Odhikar Parishad, has warned of possible conspiracies centering Durga Puja. He urged the government to ensure security and advised Hindu communities to install C..

দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রতিমা ভাঙচুর বা মন্দিরে হামলার ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা করেছেন গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। তিনি মন্দিরে সিসি ক্যামেরা বসানো এবং সরকারের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা জোরদারের পরামর্শ দিয়েছেন।

দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে নাশকতার গভীর ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। তিনি মনে করেন, পরাজিত রাজনৈতিক শক্তি এবং সরকারের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা অদৃশ্য ফ্যাসিবাদী শক্তি এ উৎসবকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করতে পারে। এজন্য তিনি সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি হিন্দু সম্প্রদায়কে বাড়তি সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খান লিখেছেন, “দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে প্রতিমা ভাঙচুর কিংবা মন্দিরে হামলার মতো ঘটনা ঘটানোর জন্য একটি মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকতে পারে। এর পেছনে কাজ করছে পরাজিত শক্তি এবং সরকারের ভেতরে লুকিয়ে থাকা অদৃশ্য ফ্যাসিবাদের দোসররা।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের হিন্দু ভাইদের প্রতি অনুরোধ, প্রতিটি মন্দিরে যেন সিসি ক্যামেরা বসানো হয়। এতে করে যদি কোথাও কোনো ধরনের চক্রান্ত বা হামলার চেষ্টা হয়, তার প্রমাণ দ্রুত পাওয়া যাবে এবং অপরাধীদের চিহ্নিত করা সহজ হবে।”

রাশেদ খান তার পোস্টে রাজনৈতিক দলগুলোকেও সজাগ থাকার আহ্বান জানান। তার মতে, কোনো মহল বাংলাদেশকে ধর্মীয় সংঘাতে ঠেলে দিতে চায়। কিন্তু দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থেকে সেই ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে হবে। তিনি লেখেন, “ধর্মীয় সম্প্রীতি আমাদের শক্তি। এই শক্তিকে ভেঙে দিতে একটি মহল বারবার ষড়যন্ত্র করছে। বাংলাদেশের মানুষকে এই ফাঁদে কোনোভাবেই পা দেওয়া যাবে না।”

তিনি মনে করেন, দুর্গাপূজা শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের নয়, বরং এটি বাংলাদেশের সামগ্রিক সংস্কৃতির একটি অংশ। তাই এই উৎসবে কোনো ধরনের হামলা বা নাশকতা দেশের সামগ্রিক ঐক্য ও সহাবস্থানে বড় আঘাত হানবে। এজন্য সরকারকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো, গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা এবং প্রতিটি মন্দিরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন।

রাশেদ খানের এই আহ্বান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ মানুষও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। অনেকে তার সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব দিয়ে বলছেন, অতীতে নানা সময়ে দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। এবারও একই ধরনের ষড়যন্ত্র হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

একজন নাগরিক মন্তব্য করেছেন, “বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো ধর্মীয় সম্প্রীতি। যারা এটিকে ভাঙতে চায়, তারা কখনোই দেশের বন্ধু হতে পারে না। তাই আমাদের সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।”

আরেকজন লিখেছেন, “রাশেদ খানের প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা জরুরি। প্রতিটি মন্দিরে যদি সিসি ক্যামেরা থাকে, তাহলে কোনো হামলার চেষ্টা হলে সেটি ধরা পড়বে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা সহজ হবে।”

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে প্রতি বছর দুর্গাপূজা ঘিরে কোটি মানুষের সমাগম হয়। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এ উৎসব শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠানই নয়, বরং একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসব হিসেবে পরিণত হয়েছে। তাই এ আয়োজনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জাতীয় দায়িত্ব বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান শেষ পর্যন্ত আহ্বান জানিয়েছেন—“বাংলাদেশের মানুষকে ধর্মীয় সম্প্রীতির ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে। আমাদের দেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করার যেকোনো ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করতে হবে। একসাথে দাঁড়াতে হবে শান্তি, ঐক্য এবং সাম্যের পক্ষে।”

לא נמצאו הערות


News Card Generator