যুক্তরাষ্ট্রে এনসিপি নেতা আখতার হোসেনের ওপর ডিম নিক্ষেপে অর্থায়ন করেছেন বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সভাপতি মোজাম্মেল হক—এমন বিস্ফোরক তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।
ঢাকার গুলশান থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেনের ওপর চালানো ডিম নিক্ষেপ হামলার পেছনে বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সভাপতি মোজাম্মেল হকের অর্থায়ন ছিল বলে দাবি করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মহানগর হাকিম মো. সেফাতুল্লাহর আদালতে অনুষ্ঠিত রিমান্ড শুনানিতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার এসআই আব্দুস সালাম এই তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, পরিকল্পিতভাবে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে মোজাম্মেল হক বিকাশের মাধ্যমে অর্থ পাঠান, যা ব্যবহার করা হয় আখতার হোসেনকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রে ডিম নিক্ষেপে।
সেদিন নড়াইল-১ আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য কবিরুল হক মুক্তি এবং বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সভাপতি মোজাম্মেল হককে আদালতে হাজির করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা সালাম দুজনের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। এ সময় তিনি যুক্তি দেন যে, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের কর্মসূচি আয়োজন করে আসছেন এবং সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী। তিনি আদালতে বলেন, আসামিরা বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জার গ্রুপ খুলে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড চালাতেন। নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ ইউনূসের সফরসঙ্গী এনসিপিসহ তিন রাজনৈতিক দলের নেতাদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি, অপমান ও মানহানি করার চেষ্টা চালানো হয়। এর অংশ হিসেবেই আখতার হোসেনকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করা হয়, যেখানে মোজাম্মেল হক আর্থিক সহায়তা দেন।
রাষ্ট্রপক্ষ আরও দাবি করে, সাবেক এমপি কবিরুল হক মুক্তি এ হামলায় ‘পেছন থেকে ভূমিকা পালন’ করেছেন। তিনি অবৈধ সংসদের সদস্য হিসেবে ফ্যাসিস্ট শাসনের সহযোগিতা করেছেন বলেও মন্তব্য করা হয়।
তবে আসামিদের পক্ষের আইনজীবীরা অভিযোগ অস্বীকার করে জামিনের আবেদন জানান। কবিরুল হক মুক্তির পক্ষে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ৬০ বছর বয়সী মুক্তির ছাত্রলীগের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই, তাই তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন। শারীরিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় রিমান্ডে নেওয়া বিপজ্জনক হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আরেক আইনজীবী জনি সিকদার ডিম নিক্ষেপের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “বাংলাদেশে ডিম নিক্ষেপের সংস্কৃতি আগে ছিল না। কিন্তু এখন সেই অপসংস্কৃতি বিদেশের মাটিতেও ছড়িয়ে পড়েছে। আদালত প্রাঙ্গণ থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তিশালী ব্যক্তিদের ওপরও ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে।”
ঘটনার প্রেক্ষিতে আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর রিমান্ড আবেদন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে এমন একটি ঘটনার পেছনে বাংলাদেশি সংগঠনের আর্থিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ দেশজুড়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক মহলেও এ নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছে।
এখন দেখার বিষয়, পুলিশি তদন্তে আরও কী কী নতুন তথ্য উঠে আসে এবং আদালত আসামিদের রিমান্ড আবেদনের বিষয়ে কী রায় দেন। তবে আপাতত স্পষ্ট হয়েছে যে, আখতার হোসেনকে লক্ষ্য করে চালানো এই ডিম নিক্ষেপ শুধু একটি তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ ছিল না; বরং এর পেছনে ছিল পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র এবং আর্থিক সহযোগিতার হাতছানি।