২৪/০৯/২০২৫ তারিখে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার, উপজেলা সদর দক্ষিণ, কুমিল্লা এর একটি ভ্রাম্যমান আদালত পদুয়ারবাজারের উত্তম-হুমায়ুন প্লাজার ‘দ্য লিভেন গ্লোবাল’ এর তোফায়েল মজুমদারকে ১ লাখ টাকা জরিমানা ও তার ‘দ্য লিভেন গ্লোবাল’ এর কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে। অভিযুক্ত মো: তোফায়েল মজুমদারের বাড়ি কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার যুক্তিখোলায়।
দ্য লিভেন গ্লোবাল প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ১ টি ঔষধে ১০০ টি রোগের চিকিৎসা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনসাধারণকে প্রতারিত করার অভিযোগে তাকে এ সাজা প্রদান করা হয়। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ৪৪ ধারায় তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অভিযান পরিচালনা করেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সজীব তালুকদার ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিনসহ থানা পুলিশের কর্মকর্তাগণ।
ভ্রাম্যমান আদালত এ আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করার পূর্বে তোফায়েল মজুমদার দাবী করতেন যে, তার পণ্য বিভিন্ন সাইনবোর্ড ছাড়াই বিক্রি হয়ে যায়! কুমিল্লায় ১০০ রোগের মহৌষধ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জনসাধারণের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন এই তোফায়েল মজুমদার। এর মাধ্যমে ২০২২ সাল থেকে অবৈধ এ ঔষধ ব্যবসা দিয়ে তিনি লাখ-লাখ হাতিয়ে নিয়েছেন বলেও বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।
ভ্রাম্যমান আদালত ব্যবস্থা নেওয়ার আগে তার প্রতিষ্ঠান দাবী করতো লিভেন গ্লোবাল স্বাস্থ্যের জন্য কাজ করে। লিভেন গ্লোবাল নতুন প্রজন্মের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সফল হতে সাহায্য করে এবং মানুষের সুখ, স্বাস্থ্যকর জীবনধারা এবং আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করে। এসব শ্লোগানকে পুঁজি ও প্রচার করে কুমিল্লার পদুয়ারবাজার বিশ্বরোডের উত্তম-হুমায়ুন প্লাজার চতুর্থতলায় অবৈধ এক ব্যবসা চালিয়ে গিয়েছেন মোঃ তোফায়েল মজুমদার। অভিযোগ রয়েছে, ‘‘পৃথিবীর সকল চিকিৎসা পদ্ধতির সময় শেষ এবং লিভেন গ্লোবালের যুগ শুরু’’ এমন মিথ্যা আশ্বাস ও প্রচারণা দিয়ে বিগত তিন বছর ধরে সরকার কর্তৃক অনুমতিবিহীন অবৈধ ঔষধ পণ্য বিক্রি করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। আর এই অর্থে ব্যক্তিগতভাবে কিনেছেন অত্যাধুনিক ব্র্যান্ডের গাড়ি-ফ্ল্যাট-ইত্যাদি। এসব প্রতারণা ব্যবসাকে অব্যাহতভাবে চালিয়ে নেওয়ার জন্য তিনি গড়ে তুলেছিলেন কুচক্রী লোকেদের সিন্ডিকেট। এসব বিষয়ে তাঁকে কেউ জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলতেন, ঢাকায় আমাদের প্রধান শাখা রয়েছে। আপনাদের জানার কিছু থাকলে ঢাকা অফিসে যোগাযোগ করুন।
সরকারের ঔষধ প্রশাসন বা বিএসটিআইসহ কোনো দপ্তরেরই অনুমোদন ছাড়া কিভাবে আপনারা এদেশে প্রতারণা করে অতি চড়া দামে লাখ লাখ টাকার ভুয়া পণ্য বিক্রি করছেন? এ প্রশ্নের জবাবে তোফায়েল মজুমদার বলতেন, লিভেন গ্লোবালে যারা যোগদান করেছেন, তারা এর সুফল পেয়েছেন। বাইরে থেকে এ ব্যবসাকে প্রতারণা মনে হয়। তিনি আরও বলতেন, লিভেন গ্লোবাল হল বিদেশি পণ্য, এটার জন্য বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদন দরকার নেই।
এই পণ্য বিক্রি করে আমরা উপার্জনও করি এবং জনসাধারণের স্বাস্থ্য পরিষেবাও দিয়ে থাকি। কিন্তু বাস্তবে এই ব্যবসার জন্য এতদিন ধরে তার অফিসের বাইরে কিংবা ভেতরে কোনো প্রকার সাইনবোর্ড ছিল না। তোফায়েল মজুমদার দাবি করতেন, তার প্রতিষ্ঠানের স্বাস্থ্য পণ্য চিকিৎসা সেবার সেরা পণ্য। এ পণ্য বিক্রির জন্য সাইনবোর্ড লাগে না। নেটওয়ার্কের মাধ্যমেই তা বিক্রি হয়ে যায়। তাই সাইনবোর্ড লাগে না। তোফায়েল মজুমদার তার অফিসে চালানো নিয়মিত সেমিনারে বলতেন, এলোপ্যাথিক-হোমিও-হার্বাল-ইউনানি সব চিকিৎসার যুগ শেষ। এখন লিভেন গ্লোবালের যুগ। এমন প্রচারণা ছিল আইনবিরোধী।
তার প্রতিষ্ঠানের পণ্যের গায়ে মূল্য তালিকা ছিল না। বিভিন্ন ভুয়া ডাক্তার দিয়ে রোগী দেখিয়ে ফি ১০০০/-টাকা নিয়ে লোক ঠকাতেন তিনি, এমন অভিযোগও ছিল। নিজেকে রাজনৈতিকভাবে জামায়াতের লোক পরিচয় দিয়েও মানুষকে ত্রাস দেখাতেন। কিন্তু ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ এ কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার এক ভ্রাম্যমাণ আদালতের অনেক আইনী প্রশ্নেরই যথার্থ কোনো উত্তরই দিতে পারেননি লিভেন গ্লোবাল কুমিল্লার পদুয়ারবাজার উত্তম-হুমায়ুন প্লাজা চতুর্থতলা সেন্টারের স্বত্ত্বাধিকারী তোফায়েল মজুমদার। তাই ভ্রাম্যমান আদালত ‘দ্য লিভেন গ্লোবাল’ এর তোফায়েল মজুমদারকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেন ও তার ‘লিভেন গ্লোবাল’ কুমিল্লার পদুয়ারবাজার উত্তম-হুমায়ুন প্লাজার কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছেন। এর ফলে জনগণ সর্বরোগের বা ১০০ রোগের মহৌষধের প্রতারণা থেকে রক্ষা পেল। প্রশাসনের এসব কার্যক্রম আগেও অব্যাহত ছিল। বর্তমানেও রয়েছে। ভবিষ্যতেও থাকবে। কিন্তু তবু গোপনে গোপনে সহসাই এ ধরনের প্রতারণা প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম চালিয়ে জনগনের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় লাখ লাখ, কোটি কোটি টাকা। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ ও প্রশাসনিক বিভিন্ন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সরকারের ভ্রাম্যমান আদালত এসব প্রতারক ও প্রতারণা প্রতিষ্ঠানকে সাজা প্রদান করে। কিন্তু কিছুদিন পরই এসব প্রতিষ্ঠান আবারো প্রতিষ্ঠানের নাম বদল করে, স্থান বদল করে, সাইনবোর্ড না লাগিয়ে গোপনে কোনো না কোনো ভবনে চালু করে তাদের যাবতীয় অপকর্ম।
শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের আইনী ব্যবস্থায়ই এসব প্রতারণা থেকে অব্যাহতি পায় জনগণ। এটাই ভরসার কথা।