জামালপুর সদর উপজেলার ২নং শরীফপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ও স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচনী আলোচনা ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ইউনিয়নের হামিদপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে নির্বাচনী সমাজভিত্তিক আলোচনা সভার আয়োজন করে চেয়ারম্যান পদে নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন শরীফপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. মিজানুর রহমান হামিদী।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আয়োজিত এ সভায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, প্রবীণ মুরব্বি, তরুণ সমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় এবং ইউনিয়নের বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও আসন্ন নির্বাচন নিয়ে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বক্তারা মো. মিজানুর রহমান হামিদীর দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও দলীয় রাজনীতিতে তাঁর ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তারা জানান, মিজানুর রহমান হামিদী নান্দিনা কলেজ শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। একই সময়ে নান্দিনা কলেজ সংসদ নির্বাচনে ‘উজ্জ্বল মিজান পরিষদ’-এর জিএস পদপ্রার্থী ছিলেন বলেও সভায় উল্লেখ করা হয়।
বক্তারা আরও জানান, সম্মেলনে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে তিনি শরীফপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, আহ্বায়ক এবং পরবর্তীতে একাধিকবার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে জামালপুর সদর উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন তিনি।
দলীয় বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে শরীফপুর ইউনিয়নের সাংগঠনিক কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন বলেও সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও জামালপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ্ মো. ওয়ারেছ আলী মামুনের দিকনির্দেশনায় তিনি ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে কাজ করে যাচ্ছেন বলে বক্তারা জানান। এছাড়া এর আগেও বিএনপির ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন বলে সভায় জানানো হয়।
সভায় নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করে মো. মিজানুর রহমান হামিদী বলেন, দীর্ঘ তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে তিনি দলীয় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করে আসছেন। ইউনিয়নবাসীর দাবি, এলাকার সমস্যা ও উন্নয়নের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে এবার চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের নাগরিক সেবা সহজ ও হয়রানিমুক্ত করা, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন ও সংস্কার, মাদক ও দুর্নীতি প্রতিরোধ, বাল্যবিয়ে বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখা এবং সরকারি অনুদান ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার সঠিক বণ্টন নিশ্চিত করার কথা জানান তিনি।
মিজানুর রহমান হামিদী বলেন, “জনগণের অধিকার আদায় এবং একটি সুন্দর, মাদকমুক্ত ও বৈষম্যহীন শরীফপুর ইউনিয়ন গড়ে তুলতে আমি আপনাদের সকলের দোয়া, সমর্থন ও ভালোবাসা প্রত্যাশা করি।”
সভায় শরীফপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি উজ্জ্বল মিয়ার সভাপতিত্বে এবং ঝাউলা গোপালপুর ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মোখলেছুর রহমান মুকুলের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন ৯নং ওয়ার্ড কৃষকদলের সভাপতি হাসেন আলী শেখ, ৭নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবকদলের আহ্বায়ক শামিম খান, অবসরপ্রাপ্ত পেশকার মুজিবুর রহমান হামিদী, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক জাহাঙ্গীর কবীর বাদশা ও ডাক্তার মুকুল ঢালী।
এছাড়া স্থানীয় এলাকাবাসীর পক্ষে বক্তব্য রাখেন হারুন অর রশীদ, জুলহাস ঢালী, আল আমিন, মজিবুর রহমান, আমিনুর ইসলাম, সুজায়েতুল্লাহ, বিল্লাল হোসেন, লিটু মিয়া, আশরাফুল ইসলাম, মজিবুর ঢালী, আখি ইসলামসহ অনেকে।
সভায় উপস্থিত স্থানীয় প্রবীণ, তরুণ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অনেকে মিজানুর রহমান হামিদীর প্রার্থিতাকে স্বাগত জানান। তাদের বক্তব্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার বিষয়টি উঠে আসে। কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা তাকে ইউনিয়ন পরিষদের নেতৃত্বে দেখতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
পরে দেশ ও জাতির কল্যাণ, এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা এবং সার্বিক মঙ্গল কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। হামিদপুর নতুন বাজার জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা কবির হোসেন মোনাজাত পরিচালনা করেন। এর মধ্য দিয়ে সভার সমাপ্তি হয়।