রাজনীতিকদের জাতিসংঘ সফর, সমালোচনা করে যা বললেন রাশেদ খান | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

রাজনীতিকদের জাতিসংঘ সফর, সমালোচনা করে যা বললেন রাশেদ খান

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
রাজনীতিকদের জাতিসংঘ সফর, সমালোচনা করে যা বললেন রাশেদ খান
রাজনীতিকদের জাতিসংঘ সফর, সমালোচনা করে যা বললেন রাশেদ খান
ছবি: সংগৃহীত
Rashed Khan criticized interim government chief adviser Dr. Muhammad Yunus’s UN visit, claiming that including political leaders only deepens inequality instead of resolving it.

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন। রবিবার গভীর রাতে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তিনি সফরসঙ্গীসহ যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে রওনা হন। এই সফরে তার সঙ্গে রয়েছেন দেশের তিনটি রাজনৈতিক দলের মোট ছয়জন প্রভাবশালী নেতা, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে এবং সামাজিক মাধ্যমে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, জামায়াতে ইসলামী নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, জামায়াত নেতা নকিবুর রহমান তারেক, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন এবং যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. তাসনিম জারা।

এই সফর নিয়েই সমালোচনায় মুখর হয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রনেতা রাশেদ খান। সোমবার সকালে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, জাতিসংঘ সফরে রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তি মূলত নিজেদের সুরক্ষার স্বার্থে করা হয়েছে। তার দাবি, বিদেশের মাটিতে বিএনপি, জামায়াত এবং আওয়ামী লীগপন্থী নেতাকর্মীরা মুখোমুখি অবস্থানে চলে যাবে, যা দেশের ভাবমূর্তিকে আরও জটিল অবস্থায় ফেলতে পারে।

রাশেদ খানের মতে, উপদেষ্টা পরিষদ বৈষম্য দূর করার কথা বললেও বাস্তবে তারা বৈষম্য আরও বাড়াচ্ছে। তার ভাষায়, “অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা যত বড় বড় কথাই বলুক না কেন, তাদের অস্তিত্ব নির্ভর করছে রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থন ও সহযোগিতার ওপর। বৈষম্য দূর করার পরিবর্তে তারা নতুন বৈষম্যের জন্ম দিয়েছে।”

পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিগত এক বছরে সরকারপ্রধান ড. ইউনূস বিভিন্ন বৈশ্বিক আয়োজনে সরাসরি অংশ নিয়েছেন, যেখানে অন্য দেশগুলো কেবল প্রতিনিধি পাঠালেও বাংলাদেশ থেকে সরকারপ্রধানের ব্যক্তিগত উপস্থিতি অতিরিক্ত গুরুত্ব আরোপ করেছে। তার মতে, এসব কার্যক্রম অনেক সময় দেশে রাজনৈতিক বিভাজনকেই স্পষ্ট করে তুলছে।

সবশেষে তিনি এবারের জাতিসংঘ সফর নিয়েও কটাক্ষ করে বলেন, বিএনপির দুইজন প্রতিনিধি ও জামায়াত-এনসিপির একজন করে প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় দলগুলোর মধ্যে সমতার দাবি আরও জোরালো হচ্ছে। রাশেদ খানের মন্তব্য, “সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো সমতার নামে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করছে। অথচ সত্যিকারের সাম্য, মর্যাদা আর ন্যায়বিচারের বাংলাদেশ গঠনের ক্ষেত্রে তারা ব্যর্থ হচ্ছে।”

অন্যদিকে, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, ড. ইউনূস ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছাবেন এবং ২৬ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন। সেখানে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের গত এক বছরের সংস্কার কার্যক্রম তুলে ধরবেন। একইসঙ্গে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বাস্তবতা ও প্রভাব, এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি বিশ্ব সম্প্রদায়ের সামনে উপস্থাপন করবেন।

এছাড়াও তিনি জাতিসংঘের পাশাপাশি একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, আন্তর্জাতিক সংলাপ ও গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক সম্মেলনে যোগ দেবেন বলে জানা গেছে। সরকারের আশা, এই সফর বাংলাদেশের অবস্থান আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আরও শক্তিশালী করবে। তবে বিরোধীরা মনে করছে, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তি সরকারের নিরপেক্ষ ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

ফলে, ড. ইউনূসের এবারের জাতিসংঘ সফর শুধুমাত্র কূটনৈতিক অঙ্গনেই নয়, দেশের ভেতরেও রাজনৈতিক বিতর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এখন দেখার বিষয়, এই সফর সত্যিই কতটা সফল হয় এবং তা বাংলাদেশের রাজনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলে।

Walang nakitang komento


News Card Generator