গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য আগামীকাল সোমবার সকালে সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দলের দপ্তর সম্পাদক শাকিল উজ্জামান। তিনি জানিয়েছেন, নুরুল হক নুরের শারীরিক অবস্থা এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক নয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকরা তাকে বিদেশে নেওয়ার পরামর্শ দেন। সেই অনুযায়ী সিঙ্গাপুরে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার সঙ্গে থাকবেন ডা. সাজ্জাদ হোসেন।
শাকিল উজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, “আমাদের নেতা নুরুল হক নুরের জন্য দেশবাসীর দোয়া ও শুভকামনা কামনা করছি। তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে আবারও মাঠে ফিরবেন বলে আমরা আশা করি।”
প্রসঙ্গত, গত ২৯ আগস্ট রাতে রাজধানীর বিজয়নগরে জাতীয় পার্টি (জাপা) ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী লাঠিচার্জ করে। এসময় গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন।
ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় নুরুল হক নুরকে প্রথমে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর চিকিৎসকদের পরামর্শে রাত ১১টার দিকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর আংশিক সুস্থ হলেও পরবর্তী পর্যায়ে আরও উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সংঘর্ষে নুরুল হক নুর মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। এই ধরনের ইনজুরির জটিলতা এড়াতে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ও বিশেষায়িত চিকিৎসা দরকার। সিঙ্গাপুরে তার দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় মেডিকেল টেস্ট সম্পন্ন করা হবে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে নুরুল হক নুর একজন আলোচিত নাম। ডাকসুর সাবেক ভিপি থেকে শুরু করে রাজপথের লড়াইয়ে তার নেতৃত্ব সবসময় আলোচনায় এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে দলের কর্মসূচি পালনকালে একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তার চিকিৎসার বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং গণঅধিকার পরিষদের কার্যক্রমেও প্রভাব ফেলবে।
দলের ভেতরে-বাইরে নেতাকর্মীরা নুরুল হক নুরের দ্রুত সুস্থতার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দোয়া ও শুভকামনা জানাচ্ছেন। অনেকেই লিখেছেন, “দেশের রাজনীতিতে নুরুল হক নুর একজন নির্ভীক কণ্ঠস্বর। তার দ্রুত সুস্থতা দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জন্য জরুরি।”
নুরুল হক নুরের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসা শেষে তিনি যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফিরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেবেন। দলের তরুণ নেতারা তার অনুপস্থিতিতেও কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন অব্যাহত রাখবেন।