ঢাকা-জাহাঙ্গীরনগরে শিবিরের জয়, জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি কি একমাত্র বিকল্প?.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

ঢাকা-জাহাঙ্গীরনগরে শিবিরের জয়, জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি কি একমাত্র বিকল্প?..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
ঢাকা-জাহাঙ্গীরনগরে শিবিরের জয়, জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি কি একমাত্র বিকল্প?..
ঢাকা-জাহাঙ্গীরনগরে শিবিরের জয়, জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি কি একমাত্র বিকল্প?..
ছবি: সংগৃহীত
Shibir’s recent victories in Dhaka and Jahangirnagar universities spark debate. Analysts believe Gen Z’s strategic voting may give BNP an unbeatable edge in the upcoming national polls.

ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের টানা জয় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, তরুণ ভোটারদের কৌশলগত ভোট জাতীয় নির্বাচনেও বিএনপিকে অজেয় করে তুলতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের টানা জয় শিক্ষাঙ্গন থেকে শুরু করে জাতীয় রাজনীতি পর্যন্ত নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দেশের ইতিহাসে এই প্রথমবার ইসলামপন্থীরা ধারাবাহিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদে আধিপত্য দেখাতে সক্ষম হলো।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ জয় শুধু ছাত্ররাজনীতির ভেতরে নয়, জাতীয় রাজনৈতিক সমীকরণেও প্রভাব ফেলতে পারে। ক্যাম্পাসে শিবিরের সাংগঠনিক শক্তি ও তৃণমূল দখল তরুণদের চোখে তাদেরকে একমাত্র কার্যকর শক্তি হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। ঠিক একইভাবে, জাতীয় রাজনীতিতে বিএনপি এখন অনেকের কাছে একমাত্র বিকল্প হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে।

ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনে বহু শিক্ষার্থী প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন যে, তারা আদর্শ নয় বরং বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিয়েছেন। তাদের ভোট শিবিরের প্রতি আদর্শগত সমর্থনের কারণে নয়, বরং জয়ের সম্ভাবনা দেখেই। রাজনৈতিক বিজ্ঞানে একে বলা হয় ‘কৌশলগত ভোট’। অর্থাৎ ভোটাররা এমন প্রার্থীকে বেছে নেন যিনি আসল প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারাতে সক্ষম।

এই প্রবণতাই এখন জাতীয় রাজনীতিতেও প্রতিফলিত হচ্ছে। শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে ছাত্ররাজনীতিতে কার্যকর শক্তি হিসেবে কেবল শিবিরই মাঠে ছিল। অন্যদিকে বিএনপি দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, তৃণমূল ঘাঁটি এবং সংগঠন ধরে রাখায় জাতীয় নির্বাচনে একমাত্র কার্যকর প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে।

এক সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, তরুণ ভোটারদের বড় অংশ বিশ্বাস করে আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপিই জিতবে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী। এনসিপি বা বামপন্থী সংগঠনগুলোকে ভোটাররা কার্যকর বিকল্প মনে করছে না।

এমন পরিস্থিতিতে জাতীয় নির্বাচনের পূর্বাভাস স্পষ্ট হয়ে উঠছে—যেভাবে ক্যাম্পাসে শিবিরকে অজেয় ভেবেছে শিক্ষার্থীরা, ঠিক সেভাবেই জাতীয় পর্যায়ে বিএনপিকে একমাত্র সম্ভাব্য বিজয়ী দল হিসেবে দেখছে অনেক তরুণ। আর এই ধারণাই বাস্তবে ভোটের ফল নির্ধারণ করতে পারে।

রাজনৈতিক বিজ্ঞানে একে বলা হয় "সেলফ-ফুলফিলিং প্রোফেসি"—যা একবার প্রতিষ্ঠিত হলে নিজেই বাস্তবতায় রূপ নেয়। বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম, বিশেষত জেনারেশন জেড, এখন ভোটকে আদর্শ নয় বরং কার্যকর ফলাফলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। তাদের কাছে আদর্শ নয়, বরং জয়ের সম্ভাবনাই আসল।

ফলত, যদি এই কৌশলগত ভোটের প্রবণতা অব্যাহত থাকে, তবে বিএনপি জাতীয় নির্বাচনে বিশাল সুবিধা পাবে। দলটির ভেতরে বিভাজন ও নেতৃত্ব সংকট থাকলেও তাদের অভিজ্ঞতা, সংগঠন এবং জনগণের চোখে অবশ্যম্ভাবী বিকল্প হয়ে ওঠাই হতে পারে ক্ষমতায় ফেরার মূল চাবিকাঠি।

অন্যদিকে বামপন্থী বা এনসিপির মতো নতুন শক্তিগুলোর সামনে কঠিন বাস্তবতা দাঁড়িয়ে গেছে। তারা যতই নতুন প্রস্তাব বা নীতি নিয়ে আসুক, কৌশলগত ভোটের ক্যালকুলেশনে তারা উপেক্ষিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। শেষ পর্যন্ত প্রতিযোগিতা দাঁড়িয়েছে একটাই—বিএনপি বনাম বাকিরা।

এখন প্রশ্ন শুধু একটাই—ক্যাম্পাস থেকে শুরু হওয়া এই কৌশলগত ভোটের ধারা কি জাতীয় নির্বাচনে বিএনপিকে অবশ্যম্ভাবী বিজয়ের পথে নিয়ে যাবে?

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator