রাজধানীর হাজারীবাগে হঠাৎ করে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল ঘিরে চাঞ্চল্য। মাত্র পাঁচ মিনিট সড়কে থেকে পালিয়ে যায় নেতাকর্মীরা, পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
রাজধানী ঢাকায় হঠাৎ করেই ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ। বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে হাজারীবাগের বেড়িবাঁধ এলাকায় ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের ময়লার ডিপোর সামনে এই ঝটিকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বর্ণনায় জানা যায়, অল্প সময়ের জন্য শুরু হওয়া এই কর্মসূচি মুহূর্তেই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মিছিলে অংশ নেয় মাত্র ১৫ থেকে ২০ জন যুবক। তারা ব্যানার হাতে নিয়ে ‘জয় বাংলা’, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘শেখ হাসিনা আসবে, রাজপথ কাঁপবে’, ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশে হাসবে’— এ ধরনের নানা স্লোগান দিতে থাকে। হঠাৎ শুরু হওয়া এ মিছিল বউবাজার হয়ে সামনের দিকে এগোলেও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। প্রায় পাঁচ মিনিট সড়কে অবস্থান করার পর ব্যানার গুটিয়ে দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আরজু বলেন, “সকালে হঠাৎ দেখি কিছু তরুণ ছেলে জড়ো হয়ে মিছিল শুরু করেছে। তারা উচ্চস্বরে স্লোগান দিচ্ছিল। কিন্তু খুব দ্রুতই ব্যানার গুটিয়ে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ এসে কয়েকজনকে ধরে নিয়ে যায়।”
পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—জিহাদ হোসেন (২৪), দিপু খা (২৮), ইরান হোসেন (১৯), হৃদয় হোসেন (১৮), মুস্তাফিজুর রহিম (২৬), সাব্বির হোসেন (১৮), বিল্লাল হোসেন (১৯), মিলন মৃধা (২৩), নুর ইসলাম (৫৬), আমির হোসেন (১৮) ও বাদশা মিয়া (৫৫)।
হাজারীবাগ থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, “আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল চলাকালে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। গ্রেপ্তার হওয়া ১১ জনের মধ্যে কারা সরাসরি মিছিলে অংশ নিয়েছিল আর কারা আশপাশ থেকে ধরা পড়েছে, তা যাচাই-বাছাই চলছে। যাচাই শেষে যাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান, এ ধরনের আকস্মিক মিছিল বা অনুমোদনহীন কার্যক্রম ঠেকাতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, মিছিলে অংশ নেওয়া অধিকাংশই কিশোর বা তরুণ। বয়স ছিল ১৪ থেকে ২০ বছরের মধ্যে। তবে কয়েকজন মধ্যবয়সী লোকও ছিলেন। তারা মিছিলে অংশ নিলেও পরিস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত পালিয়ে যান।
রাজধানীতে হঠাৎ করে এ ধরনের ঝটিকা কর্মসূচি সামনে আসায় সাধারণ মানুষও বিস্মিত হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকা সত্ত্বেও কেন এবং কীভাবে হঠাৎ এমন মিছিল হলো।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা মনে করছেন, এ ধরনের ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হতে পারে। তবে পুলিশের কঠোর অবস্থানের কারণে এগুলো বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারছে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, “ঢাকায় ঝটিকা মিছিলের ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি ভবিষ্যতে বড় ধরনের অস্থিতিশীলতার ইঙ্গিত বহন করতে পারে।” তারা মনে করেন, সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সতর্ক থাকতে হবে।