চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হল সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে মনোনয়নপত্র নিয়েছেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমের ছোট ভাই আবু আয়াজ। কোন পদে লড়বেন তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবে তার প্রার্থিতা ইতোমধ্যেই ছাত্ররাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন্ন কেন্দ্রীয় হল সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নতুন আলোচনায় উঠে এসেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েমের ছোট ভাই আবু আয়াজ। মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। এর মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে শুরু হয়েছে নতুন এক রাজনৈতিক সমীকরণের আলাপ।
আবু আয়াজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়ার্দী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী এবং আরবি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। সূত্রে জানা গেছে, তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী হল শাখার প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মনোনয়নপত্র নেয়ার পরও তিনি কোন পদে লড়বেন তা প্রকাশ করেননি। তার ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন, তিনি কার্যনির্বাহী সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন।
সোহরাওয়ার্দী হল শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আবরার ফারাবী এ বিষয়ে বলেন, “আয়াজ তার বন্ধুদের সঙ্গে মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন। তবে কোন পদে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, সেটি এখনও নিশ্চিত নয়।”
মনোনয়নপত্র সংগ্রহের বিষয়টি আবু আয়াজও স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আমি ফরম নিয়েছি ঠিকই, তবে নির্বাচনে লড়ব কি না, কিংবা কোন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব, সে সিদ্ধান্ত দলীয়ভাবে নেয়া হবে। যেহেতু আমি দলীয় প্যানেল থেকে অংশগ্রহণ করব, তাই বিষয়টি নেতৃত্বই চূড়ান্ত করবে।”
উল্লেখ্য, আবু আয়াজ হচ্ছেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমের একমাত্র ছোট ভাই। তাদের বাড়ি খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার নয়নপুর গ্রামে হলেও পারিবারিক সূত্রে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার সঙ্গে তাদের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। তাদের বাবা পেশায় কাপড়ের ব্যবসায়ী ছিলেন এবং ব্যবসার কারণে প্রায় চার দশক আগে পরিবার নিয়ে খাগড়াছড়িতে স্থায়ী হন। আবু আয়াজ ছাড়াও পরিবারের আরও তিন বোন রয়েছেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন্ন নির্বাচনের কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আগামী ১২ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা হবে ২৭ হাজার ৬৩৭ জন। গত রোববার থেকে মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হয়েছে। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হবে। ২৩ সেপ্টেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় এবং ২৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমের জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক ভূমিকা ইতিমধ্যেই জাতীয়ভাবে আলোচিত। এবার তার ছোট ভাই আবু আয়াজের প্রার্থিতা চাকসু নির্বাচনে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। বিশেষ করে ছাত্রশিবিরের প্রভাব, দলীয় প্যানেল এবং প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্র সংগঠনগুলোর কৌশল এই নির্বাচনে ভিন্ন মাত্রা আনবে বলে অনেকেই মনে করছেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসজুড়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা চলছে, আয়াজের প্রার্থিতা কেবল একটি পারিবারিক পরিচয়ের কারণে নয়, বরং ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক অবস্থানকেও দৃশ্যমান করবে। অনেক শিক্ষার্থী মনে করছেন, এটি ছাত্ররাজনীতির প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশকে আরও জটিল ও প্রাণবন্ত করে তুলবে।
চাকসু নির্বাচনকে ঘিরে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় এখন সরগরম। প্রার্থীরা দলীয় লবি, সমর্থক সংগ্রহ ও প্রচারণার পরিকল্পনা শুরু করেছেন। আবু আয়াজের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও জমে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।