জামায়াত কি বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ভাঙতে দেশকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ বানাতে চাইছে, প্রশ্ন আমীর খসরুর.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

জামায়াত কি বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ভাঙতে দেশকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ বানাতে চাইছে, প্রশ্ন আমীর খসরুর..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
জামায়াত কি বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ভাঙতে দেশকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ বানাতে চাইছে, প্রশ্ন আমীর খসরুর..
জামায়াত কি বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ভাঙতে দেশকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ বানাতে চাইছে, প্রশ্ন আমীর খসরুর..
ছবি: সংগৃহীত
BNP standing committee member Amir Khasru questioned whether Jamaat-e-Islami aims to destabilize Bangladesh and turn it into a failed state, warning that political moves around proportional representa..

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নির্বাচনী অনীহা ও পিআরের দাবিকে কেন্দ্র করে জামায়াত দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ তৈরির চেষ্টা করছে কি না—এমন সন্দেহ জনগণের মাঝে উসকে দিয়েছে। 

রাজনীতির উত্তাপে ভরা বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি করল বিএনপির শীর্ষ নেতার উদ্ঘাটিত অভিযোগ—একটি ধর্মীয় রাজনৈতিক দল কি মৃত্যুঞ্জয় পরিবেশ সৃষ্টি করে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ভিত্তিকে দুর্বল করতে চাইছে? বুধবার বনানীর সারিনা হোটেল মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আমীর খসরু এই প্রশ্ন তুলে জানান, নির্বাচন-প্রক্রিয়ার প্রতি অনীহা ও মাঠ দখলকে কেন্দ্র করে যে আন্দোলনের ডাক সৃষ্টি হয়েছে, তা কি মূলত নির্বাচনের বাইরে রেখে একটি দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করার লক্ষ্য রটিয়ে দিয়েছে — এবং সেটি কী অপরিহার্যভাবে দেশকে এক ধরণের ব্যর্থ রাষ্ট্রের দিকে ঠেলে দিতে পারে?

তিনি বলেন, “যারা নির্বাচন নিয়ে অনীহা প্রচার করছে, তারা যদি গণতান্ত্রিক পদ্ধতিকে বাদ দিয়ে ক্ষমতা বা প্রভাব অর্জনের চেষ্টা করে, তাহলে সেটি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য ক্ষতিকর। জনগণকে ভয় দেখিয়ে বা মাঠে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে রাজনীতি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। গণতান্ত্রিক উপায়ে মাঠ দখল করতে হলে জনগণের কাছে গিয়ে ম্যান্ডেট নিতে হবে—কাউকে বাধ্য করে বা ভীতি দেখিয়ে তা করা যায় না।” তাঁর ভাষায়, পিআর (প্রাতিনিধিক গঠন) পদ্ধতির দাবিকে কেন্দ্র করে যে ধরণের আন্দোলন ঢালানো হচ্ছে, জনগণের মধ্যে এই সন্দেহ তৈরি হয়েছে যে এর পেছনে কারা আছেন এবং তাদের উদ্দেশ্য কী—দেশকে অস্থিতিশীল করে রাজনৈতিক সুবিধা নেয়া কি তাদের লক্ষ্য?

আমীর খসরু আরও বলেন, “যে দলগুলো ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করে যাচ্ছে, তাদের কথায় ও কর্মকাণ্ডে যদি দেশের স্থিতিশীলতার প্রতি সম্মান না দেখা যায় তাহলে জনগণই তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।” তিনি দৃঢ় করে বলেন যে জনগণই চূড়ান্ত বিচারে ন্যায় নির্ধারণ করবে—যারা দেশের স্থিতিশীলতা ক্ষুণ্ণ করবে তাদের বিরুদ্ধে ভোটাররা প্রতিক্রিয়া দেখাবে। তাঁর মন্তব্যের সারমর্ম ছিল, রাজনৈতিক মতানৈক্য থাকতেই পারে, কিন্তু সেটি যদি দেশের সমগ্র নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি-চেতনায় আঘাত করে, তাহলে তা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। 

নির্বাচনের প্রসঙ্গে আমীর খসরু পরিস্থিতির বাস্তবতা তুলে ধরে বলেন, “বর্তমানে যে অনীহ ও দ্বিধা লক্ষ্য করা যাচ্ছে—তারা যদি আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা পিআর পদ্ধতি দাবি করে আন্দোলন গড়ে তোলেন, তা হয়ত কোনো রাজনৈতিক দলের স্বার্থসিদ্ধি হিসেবে দেখা যেতে পারে; কিন্তু সেটি যদি বড় পরিসরে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করে, তাহলে সেটি জনগণের স্বার্থে নয়।” তিনি স্পষ্ট করেন, বিএনপির নীতি ও কর্মসূচি নির্বাচনী প্রচার-অভিযানকে কেন্দ্র করে: “জনগণ যেখানে নির্বাচন প্রত্যাশায় আছে, সেখানে মাঠ দখল করতে হলে ভোটের প্রচারণার মাধ্যমে যেতে হবে—দলীয় নেতাকর্মীরা ইতোমধ্যেই নির্বাচনী মাঠে নামছে।”

দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা নিয়ে নানা দাবি-প্রতিদাবি দীর্ঘদিনের রাজনীতির অংশ। আমীর খসরুর বক্তৃতা এই প্রেক্ষাপটে নতুন রাজনৈতিক তর্কের সূত্রপাত করেছে—বিশেষত যখন কিছু রাজনৈতিক দল নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অনীহ প্রকাশ করছে এবং বিকল্প প্রনালী নিয়ে আন্দোলনের ডাক দিচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোকে সতর্ক থাকতে হবে যেন কোনো বিদ্বেষপূর্ণ বা সহিংস পরিকল্পনা রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতাকে প্রহ্র বিরুদ্ধে পরিণত করে না। অন্যদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত হবে সৌজন্যমূলক আলোচনা, আইনি পথে দাবি-উপস্থাপন ও উদার গণতান্ত্রিক পদ্ধতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা।

অপরদিকে, আমীর খসরুর এই মন্তব্য দলীয় নীতি ও কৌশল প্রেক্ষাপটে বিশেষ গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে—কারণ বিএনপি দীর্ঘদিন থেকে নির্বাচন-ঘটিত ইস্যুগুলো নিয়ে সোচ্চার। তিনি বলেন, “যদি কোনও রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করা হয়, তাহলে সেটি দেশের অর্থনীতি, সামাজিক স্থিতি ও আন্তর্জাতিক ভাবমূতিতে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি করতে পারে।” তাঁর ভাষায়, রাজনীতি করা মানে নয় শুধুই রণকৌশল—এটি দেশের জনগণের কল্যাণ ও সার্বিক স্বার্থ রক্ষার জন্য করা উচিত।

সার্বিকভাবে দেখা যাচ্ছে, সংগঠিত রাজনৈতিক আন্দোলন এবং নির্বাচনী কৌশল নিয়ে শুরু হওয়া এই বিতর্ক ভবিষ্যতে রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। আমীর খসরুর বক্তব্য যে: “দেশ অস্থিতিশীল করতে যে কেউ যদি পথ বেছে নেয়, তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ জনগণই নির্ধারণ করবে” — তা রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে একটি উল্লেখযোগ্য সতর্কবার্তা হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে।

এই ঘটনাপ্রবাহে রাজনীতিকরা আশা করছেন যে সব পক্ষ আলোচনামূলক মনোভাব নিয়ে আসবে, যাতে দেশের সাধারণ মানুষ ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগে সন্দিহান না হয়। শেষ পর্যন্ত, দেশের স্থিতিশীলতা ও জনগণের অধিকার রক্ষা করাই হবে রাজনৈতিক বক্তৃতা ও কর্মসূচির প্রধান উদ্দেশ্য হওয়া উচিত—এমনটাই বার্তা দিলেন আমীর খসরু।

Aucun commentaire trouvé


News Card Generator