মানবজাতির জন্য আল্লাহর অনুগ্রহের মধ্যে রাসুলুল্লাহ (দরুদ) ও পবিত্র কুরআন অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপহার। ইসলাম ধর্মের মূল সত্তা হিসেবে এই দুটি উপাদান অপরিহার্য। মুমিনদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এই দুটি উপাদানের ভূমিকা অগ্রগণ্য। রাসুলুল্লাহ (দরুদ) হচ্ছেন প্র্যাকটিক্যাল ইসলাম এবং পবিত্র কুরআন থিউরিক্যাল ইসলাম।
ইসলামের প্রকৃত মর্মার্থ উপলব্ধি করতে হলে রাসুলুল্লাহ (দরুদ) ও পবিত্র কুরআনকে একত্রে বুঝতে হবে। বিদায় হজ্বের ভাষণে রাসুলুল্লাহ (দরুদ) মুমিনদের জন্য নির্দেশনা দিয়েছিলেন যে তারা যেন কুরআন ও তাঁর সুন্নাহকে আবশ্যিকভাবে আঁকড়ে ধরে রাখে। তিনি বলেন, "তোমাদের জন্য দুইটা সম্পদ রেখে গেলাম, যার একটি হলো কুরআন আরেকটি আমার সুন্নাহ। তোমরা যতক্ষণ এই দু'টি আকড়ে ধরবে তোমাদের কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারবে না।"
ইসলাম ধর্মে রাসুলুল্লাহ (দরুদ) এবং কুরআনকে পৃথকভাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। তারা একে অপরের পরিপূরক। ইসলামের দৃষ্টিতে কোনো একটি উপাদানের মর্যাদা অন্যটির উপর প্রাধান্য পাওয়ার সুযোগ নেই। এই দুটি উপাদান মিলেই ইসলামের পূর্ণাঙ্গতা।
বিবিধ ধর্মীয় মতপার্থক্য ও কুরআন এবং রাসুলুল্লাহ (দরুদ)-এর মধ্যে অতিরিক্ত বিতর্কের কারণে মুসলমানদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে। কিছু ধর্মীয় পণ্ডিত কুরআন ও রাসুলুল্লাহ (দরুদ)-এর মর্যাদার ক্ষেত্রে বিতর্ক সৃষ্টি করে, যা ইসলামের মূল সত্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
ইসলামের প্রাথমিক যুগে, যখন মুসলমানরা জ্ঞান-বিজ্ঞান ও ঐক্যের পথে ছিল, তখন তারা বিশ্বের দরবারে সম্মানিত ছিল। কিন্তু আজকের দিনে, ধর্মীয় বিভেদ ও বিতর্কের কারণে মুসলমানরা অপমানিত হচ্ছে। ইসলামের প্রকৃত আদর্শকে পুনরুদ্ধার করতে হলে এই বিভেদ ও বিতর্ককে পরিহার করতে হবে এবং কুরআন ও রাসুলুল্লাহ (দরুদ)-এর প্রতি অবিচল আনুগত্য প্রকাশ করতে হবে।
মুমিনদের উচিত কুরআন ও রাসুলুল্লাহ (দরুদ)-এর প্রতি নিঃসংকোচে আনুগত্য প্রকাশ করা। ধর্মীয় শিক্ষাগুরুরাও এ বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে পারেন। ইসলাম ধর্মের প্রকৃত সৌন্দর্য এবং সম্প্রীতির বার্তা প্রচার করতে হবে।
যে সমাজে জ্ঞান-বিজ্ঞান, সম্প্রীতি ও ঐক্য বিদ্যমান, সেই সমাজই শক্তিশালী হতে পারে। মুসলমানদের উচিত এই গুণাবলির চর্চা করা এবং কুরআন ও রাসুলুল্লাহ (দরুদ)-এর প্রদর্শিত পথে চলা।
লেখক: মুহাম্মদ মইন উদ্দীন, শিক্ষার্থী, রাঙ্গুনিয়া আলমশাহ পাড়া কামিল মাদ্রাসা।