রাষ্ট্রের মূলনীতিতে ‘আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ ফেরাতে চায় জামায়াতে ইসলামী। একসঙ্গে ১০০ নারী আসন ও প্রধানমন্ত্রী পদের মেয়াদসীমা নিয়েও প্রস্তাব দিয়েছে দলটি।
সংবিধানে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা-বিশ্বাসের ধারাটি ফেরানোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস প্রতিস্থাপন সময়ের দাবি।
২৭ জুলাই, রবিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর ধারাবাহিক আলোচনার ১৯তম দিনে অংশগ্রহণ করে জামায়াত। আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দলের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তুলে ধরেন রফিকুল ইসলাম খান।
তিনি বলেন, “পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে যেভাবে আল্লাহর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস যুক্ত করা হয়েছিল, এখন আবার তা সংবিধানে স্পষ্টভাবে প্রতিস্থাপন করতে হবে। রাষ্ট্রের মূলনীতিতে শুধু সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার ও গণতন্ত্র নয়, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতির পাশাপাশি আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসও অপরিহার্য হওয়া উচিত।”
রফিকুল ইসলাম দাবি করেন, আলোচনা চলাকালে কিছু দল এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করলেও অধিকাংশ রাজনৈতিক দল এই বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করেছে। তিনি বলেন, “আমরাও বিশ্বাস করি, আল্লাহর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস রাষ্ট্র পরিচালনায় নৈতিক ভিত্তি গড়ে তোলে। তাই এটি মূলনীতিতে সংযোজন করতে হবে।”
নারী প্রতিনিধিত্ব সংক্রান্ত কমিশনের প্রস্তাবের বিষয়ে রফিকুল ইসলাম জানান, “এক তৃতীয়াংশ নারী সংসদ সদস্য রাখার প্রস্তাবে আমরা নীতিগতভাবে একমত। ৩০০ আসনের সংসদের বাইরে পিআর পদ্ধতিতে ১০০ আসনের নারী আসন নির্ধারণ হোক—এটাই আমাদের অবস্থান।” তিনি বলেন, “ভোটের আনুপাতিক ভিত্তিতে এই নারী আসন নির্ধারিত হবে। এ নিয়ে অধিকাংশ রাজনৈতিক দল একমত হয়েছে।”
আলোচনায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল—প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ। রফিকুল ইসলাম বলেন, “একজন ব্যক্তি জীবদ্দশায় সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবে—এই প্রস্তাবে আমরা একমত হয়েছি। সবাই চায়, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ না হোক, এবং নেতিবাচক নেতৃত্বের পুনরাবৃত্তি বন্ধ হোক।”
জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের উদ্যোগকে স্বাগত জানায় এবং ভবিষ্যতের রাষ্ট্র কাঠামো গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে চায়। ধর্মীয় মূল্যবোধ, গণতন্ত্র, নারী অংশগ্রহণ ও ক্ষমতার ভারসাম্য—সব বিষয়েই স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে দলটি।
এই আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয়েছে, সংবিধান সংস্কার ও ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামো নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কিছু মতভেদ থাকলেও, অনেকগুলো প্রস্তাবে ঐক্যমত সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে নারী প্রতিনিধিত্ব, প্রধানমন্ত্রী পদের সময়সীমা এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ সংযুক্তির বিষয়ে সংলাপ ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে।