জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠক শুরুর পরপরই ওয়াকআউট করল বিএনপি। সম্প্রতি ছাত্র অভিভাবক বিক্ষোভে পুলিশের হামলার প্রতিবাদে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের উত্তেজনা ছড়াল বিএনপির হঠাৎ ওয়াকআউটকে ঘিরে। সোমবার, ২৮ জুলাই, ঢাকায় ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকের শুরুতেই অংশগ্রহণকারী বিএনপি নেতারা বৈঠক কক্ষ ত্যাগ করেন।
এটি ছিল ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় ধাপের আলোচনা পর্বের ২০তম দিন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপির এই আচরণ ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সংলাপ ও আলোচনার গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২৩ জুলাই রাজধানীর উত্তরা দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনার পর, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ন্যক্কারজনক হামলার জেরে তারা এই প্রতিবাদী অবস্থান নিয়েছে।
উল্লেখযোগ্য, এর আগেও ঠিক একই ইস্যুতে জাতীয় ঐকমত্য সংলাপ বয়কটের ঘটনা ঘটে। ২৩ জুলাই, সিপিবি (বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি), জাসদ (জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল) এবং বাসদ (বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল) প্রতীকী ওয়াকআউটের মাধ্যমে বৈঠক থেকে নিজেদের প্রতিবাদ জানান।
সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স অধিবেশনের শুরুতেই দাঁড়িয়ে পুলিশের আচরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। তিনি ১০ মিনিটের প্রতীকী ওয়াকআউটের ঘোষণা দিলে সঙ্গে সঙ্গে জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য মুশতাক হোসেন ও বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ তাতে একাত্মতা প্রকাশ করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির এই ওয়াকআউট তৎপর রাজনৈতিক পরিস্থিতির একটি বার্তা বহন করছে। যেখানে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে ঐকমত্যের পথে অগ্রসর হওয়ার যে প্রচেষ্টা, তা আবারও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এছাড়াও, এটি নতুন করে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়িয়ে দিতে পারে বলেও মনে করছেন অনেকে।
বিএনপির নেতারা পরবর্তীতে সাংবাদিকদের জানান, সরকারের অনমনীয় মনোভাব, জনগণের কণ্ঠরোধ, এবং সংলাপে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর কার্যত নিরব ভূমিকার প্রতিবাদেই তারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তারা বলেন, “যেখানে সাধারণ মানুষের কথা বলা যাচ্ছে না, সেখানে ঐকমত্যের কোনো মানে নেই। ঐকমত্য হবে তখনই, যখন সরকারের জবাবদিহিতা থাকবে।”
প্রসঙ্গত, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সরকারের উদ্যোগে একটি ইনক্লুসিভ রাজনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করার জন্য গঠিত হয়, যেখানে সব রাজনৈতিক দলকে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করা হয়। তবে বিগত কয়েক মাস ধরে সংলাপে অংশগ্রহণকারী কিছু দল একের পর এক বৈঠক বর্জনের মাধ্যমে কমিশনের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।
এই পরিস্থিতিতে কমিশনের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
এদিকে বিএনপির এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ বলছেন, এটি জনগণের স্বার্থে সঠিক পদক্ষেপ, আবার কেউ বলছেন, বিএনপি বারবার সংলাপ বর্জনের মাধ্যমে সমাধানের পথ নিজেই বন্ধ করছে।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই প্রতিবাদ ও প্রতিক্রিয়া আগামী নির্বাচনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে। এখন দেখার বিষয়, অন্যান্য রাজনৈতিক দল এ ধরনের অবস্থানের ওপর কী ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং সরকার কতটা নমনীয়তা দেখাতে পারে সমঝোতার পথে।