গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসনকে ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ’ বলে নিন্দা জানিয়েছে পাকিস্তান ও তুরস্ক। যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগের ওপর জোর দিয়েছেন দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।
গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যা দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। প্রতিদিনই ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার বিমান ও স্থল হামলায় প্রাণ হারাচ্ছে শত শত ফিলিস্তিনি নারী ও শিশু। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে হাসপাতাল, স্কুল, ও সাধারণ মানুষের বাড়িঘর। এমন পৈশাচিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এবার সরব হলো মুসলিম বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দুটি রাষ্ট্র—পাকিস্তান ও তুরস্ক।
২৮ জুলাই সোমবার জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রবিবার পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে এক টেলিফোন আলাপে গাজায় চলমান মানবিক বিপর্যয় নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। আলোচনায় দুই নেতা ইসরায়েলের চলমান আগ্রাসন, দুর্ভিক্ষ, এবং সাধারণ মানুষের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির ঘটনাকে ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানান।
দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী একমত হন যে, গাজায় এখনই যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা না হলে মানবিক বিপর্যয় আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। তারা বলেন, জরুরি ভিত্তিতে অবরুদ্ধ গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানো নিশ্চিত করা দরকার। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি তারা আহ্বান জানান, যেন তারা একটি ন্যায়সঙ্গত, স্থায়ী ও ব্যাপক শান্তি প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিতভাবে কাজ করে।
পাকিস্তান ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আবারও ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায্য অধিকারের প্রতি তাদের অটল সমর্থন ব্যক্ত করেন। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, জাতিসংঘে অনুষ্ঠিতব্য দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সম্মেলন থেকে এই সংকট নিরসনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গাজায় চলমান ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবেলায় মুসলিম বিশ্বের কূটনৈতিক চাপ বাড়ানো এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। শুধু বিবৃতি নয়, কার্যকর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগই পারে এই রক্তস্নাত অমানবিক পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে।