বাংলাদেশে আর কখনো মন্দির পাহারা দিতে হবে না , নাহিদ ইসলাম | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

বাংলাদেশে আর কখনো মন্দির পাহারা দিতে হবে না , নাহিদ ইসলাম

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
বাংলাদেশে আর কখনো মন্দির পাহারা দিতে হবে না , নাহিদ ইসলাম
বাংলাদেশে আর কখনো মন্দির পাহারা দিতে হবে না , নাহিদ ইসলাম
ছবি: সংগৃহীত
NCP Convenor Nahid Islam, during his visit to the 300-year-old Dayamayi Temple in Jamalpur, declared, “No more temple guards will be needed in Bangladesh.” He emphasized equality and religious freedom..

জামালপুরে ৩০০ বছরের দয়াময়ী মন্দির পরিদর্শনে গিয়ে এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বললেন—বাংলাদেশে আর মন্দির পাহারা দিতে হবে না। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে নাগরিক পার্টি।

বাংলাদেশে ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে সাম্য ও মর্যাদার ভিত্তিতে একটি নতুন রাষ্ট্র গড়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, ‘এই বাংলাদেশে আর কখনো মন্দির পাহারা দিতে হবে না। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো হবে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ।’

গতকাল ২৭ জুলাই রাতে জামালপুর শহরের ঐতিহাসিক দয়াময়ী মন্দির পরিদর্শনের সময় তিনি এই বার্তা দেন। মন্দিরটির প্রায় ৩০০ বছরের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, “এটি কেবল একটি উপাসনালয় নয়, এটি বাংলার ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল প্রতীক। এই দেশের প্রতিটি নাগরিক যেন তাঁর ধর্ম ও সংস্কৃতি নির্বিঘ্নে পালন করতে পারেন, সেটিই আমাদের লক্ষ্য।”

এর আগে শেরপুরে পথসভা শেষ করে জামালপুরে প্রবেশ করেই হযরত শাহ জামাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন নাহিদ ইসলাম ও এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা।

তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে কোনো ধর্ম, জাতি বা গোষ্ঠীর প্রতি বৈষম্য থাকবে না। মসজিদ, মন্দির, গির্জা কিংবা প্যাগোডা—সব উপাসনালয়ে মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে প্রার্থনা করতে পারবে।”

স্বাধীনতা-পরবর্তী ৫৪ বছরের ইতিহাসে যে বৈষম্য ও অবিচার তৈরি হয়েছে, তা তুলে ধরে তিনি বলেন, “সমান নাগরিক অধিকার, মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ—এই ভিত্তিতেই রাষ্ট্র গঠনের কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। সেই অসমাপ্ত কাজ এবার তরুণদের হাত ধরে সম্পন্ন করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “গণঅভ্যুত্থান শুরু হয়ে গেছে, তরুণরা রাজপথে নেমেছে একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে। আমরা চাই, সেখানে থাকবে না কোনো বিভাজন—থাকবে শুধুই ন্যায়বিচার, সমান অধিকার ও মানবিক মর্যাদা।”

সকল ধর্ম, নারী-পুরুষ, বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের অংশগ্রহণে এনসিপি একটি ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে উঠছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। “আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কাজ করব। জনগণের সাথেই থাকব সবসময়।”

এই সফরের সময় তার সঙ্গে ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, যুগ্ম সদস্য সচিব ও জেলা সমন্বয়কারী লুৎফর রহমান, জাতীয় যুবশক্তির যুগ্ম আহ্বায়ক হিফজুর রহমান বকুল ও সংগঠক মোসাদ্দেকুর রহমানসহ আরও অনেকে।

তবে নির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে হরিজন পল্লীতে মতবিনিময় ও চামড়া গুদাম মাদরাসা পরিদর্শনের পরিকল্পনা বৃষ্টির কারণে বাতিল করা হয়।

আগামী ২৮ জুলাই সকাল ৯টায় এনসিপি নেতারা জামালপুর সার্কিট হাউজে শহীদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। বেলা ১১টায় শহরের গেটপাড়া থেকে পদযাত্রা শুরু হবে, যা শেষ হবে ফৌজদারী মোড়ে পথসভা দিয়ে।

এই পদযাত্রায় নেতৃত্ব দেবেন নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেন, সামান্তা শারমিন, আরিফুল ইসলাম আদীব, ডা. তাসনিম জারা, নাহিদা সরওয়ার নিভা, হাসনাত আব্দুল্লাহ, সারজিস আলম, আব্দুল হান্নান মাসউদ, মশিউর আমিন শুভ, তরিকুল ইসলামসহ আরও অনেকে।

এই কর্মসূচি থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টি একটি বার্তা দিতে চায়—বাংলাদেশে আর কোনো ধর্মীয় বৈষম্য থাকবে না, থাকবে সাম্যের ভিত্তিতে গঠিত একটি মানবিক রাষ্ট্র।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator