আওয়ামী লীগ নেত্রী শাম্মী কেন গ্রেপ্তার হচ্ছেন না , এনসিপি নেতা শিশির.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

আওয়ামী লীগ নেত্রী শাম্মী কেন গ্রেপ্তার হচ্ছেন না , এনসিপি নেতা শিশির..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
আওয়ামী লীগ নেত্রী শাম্মী কেন গ্রেপ্তার হচ্ছেন না  , এনসিপি নেতা শিশির..
আওয়ামী লীগ নেত্রী শাম্মী কেন গ্রেপ্তার হচ্ছেন না  , এনসিপি নেতা শিশির..
ছবি: সংগৃহীত
NCP leader Zainal Abedin Shishir questions why Awami League leader Shammi Ahmed, accused in a murder case, has not been arrested, despite recent arrests at her residence over extortion charges.

হত্যা মামলার আসামি ও আওয়ামী লীগ নেত্রী শাম্মী আহমেদ কেন এখনো গ্রেপ্তার হননি—এ প্রশ্ন তুলে নিন্দা জানালেন এনসিপি নেতা শিশির। চাঁদাবাজির ঘটনায় চারজন গ্রেপ্তার হলেও শাম্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে।

আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আহমেদকে কেন এখনো গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না—এ নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতা জয়নাল আবেদীন শিশির। সোমবার রাতে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “হত্যা মামলার আসামি লীগের এমপি শাম্মীকে কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না? এর খুঁটির জোর কোথায়? চাঁদাবাজির জন্য গ্রেপ্তারকে সাধুবাদ। কিন্তু হত্যা মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার না করায় নিন্দাবাদ।”

শাম্মী আহমেদ গত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৪ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকতার অভিযোগ উঠলে নির্বাচন কমিশন তার প্রার্থিতা বাতিল করে। পরবর্তীতে তিনি সংরক্ষিত মহিলা আসনে সংসদ সদস্য মনোনীত হন এবং বর্তমানে প্রবাসী ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি, ২০১৭ সাল থেকে তিনি আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বেও রয়েছেন।

তবে তার নাম উঠে আসছে আরও গুরুতর অভিযোগে। গত ২৬ জুলাই সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানের ৮৩ নম্বর রোডে শাম্মীর বাসায় ‘সমন্বয়ক’ পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো—সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক রিয়াদ, ঢাকা মহানগর শাখার আহ্বায়ক মো. ইব্রাহিম হোসেন, সদস্য সাকাদাউন সিয়াম এবং সাদমান সাদাব। এই চারজনকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে এবং তাদের সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এই চাঁদাবাজি চক্রে আরও অনেকেই জড়িত থাকতে পারে এবং সেই চাঁদার একটি অংশ উচ্চপর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছিল কিনা, তা নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তে বেরিয়ে আসছে, শাম্মীর বাসায় এমন একটি অপরাধচক্র নিয়মিত কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—সেই বাসার মালিক, তথা শাম্মী আহমেদ, যিনি নিজেই হত্যার মতো গুরুতর মামলার আসামি, তাকে কেন স্পর্শ করছে না আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী?

জনমনে এই প্রশ্ন তোলার পেছনে যুক্তি রয়েছে। সাধারণ মানুষ কিংবা বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা সামান্য অভিযোগেই গ্রেপ্তার হচ্ছেন। অথচ শাসক দলের প্রভাবশালী এক নেত্রী, যার বাসায় অপরাধ সংগঠিত হয়েছে এবং যার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা রয়েছে, তিনি দিব্যি সংসদে এবং কমিটিতে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন—এ যেন আইনের চোখে এক ভয়ঙ্কর বৈষম্যের উদাহরণ।

নাগরিক সমাজের একাংশ বলছে, যদি শাম্মী আহমেদ নির্দোষ হন, তবে তদন্তের মাধ্যমে সেটা পরিষ্কার হওয়া উচিত। কিন্তু মামলা থাকার পরও তার বিরুদ্ধে আইনগত কোনো পদক্ষেপ না নেওয়া হলে সেটি বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট করে।

এনসিপি নেতা শিশিরের এই পোস্ট এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। অনেকেই মনে করছেন, সরকারের উচিত দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া—শাম্মী আহমেদ কি সত্যিই আইনের ঊর্ধ্বে?

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator