হত্যা মামলার আসামি হয়েও কেন গ্রেপ্তার হচ্ছেন না আওয়ামী লীগ নেত্রী শাম্মী আহমেদ— এমন প্রশ্ন তুলেছেন এনসিপি নেতা শিশির। গুলশানে তার বাসায় চাঁদাবাজির ঘটনায় চারজন গ্রেপ্তার হলেও শাম্মী এখনো ধরা-ছোঁয়ার বাইরে।
আওয়ামী লীগ নেত্রী ও সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আহমেদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন তাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না— তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব জয়নাল আবেদীন শিশির। সোমবার রাতে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পেইজে এ নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দেন তিনি।
শিশির তার পোস্টে লেখেন, "হত্যা মামলার আসামি লীগের এমপি শাম্মীকে কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না? এর খুঁটির জোর কোথায়? চাঁদাবাজির জন্য গ্রেপ্তারকে সাধুবাদ। কিন্তু হত্যা মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার না করায় নিন্দাবাদ।"
উল্লেখ্য, শাম্মী আহমেদ ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-কাজীরহাট) আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। তবে তার দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকায় নির্বাচন কমিশন তার প্রার্থিতা বাতিল করে। এরপর তিনি সংরক্ষিত মহিলা আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং বর্তমানে তিনি দ্বাদশ জাতীয় সংসদের প্রবাসী ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি, ২০১৭ সাল থেকে তিনি আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে রয়েছেন।
সম্প্রতি তার নাম আবারও আলোচনায় আসে, যখন গুলশানে তার বাসভবনে সংঘটিত একটি চাঁদাবাজির ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত শনিবার (২৬ জুলাই) সন্ধ্যায় গুলশানের ৮৩ নম্বর রোডের বাসায় 'সমন্বয়ক' পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চার নেতাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের মধ্যে ছিলেন সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আন্দোলনের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক রিয়াদ, ঢাকা মহানগরের আহ্বায়ক মো. ইব্রাহিম হোসেন, সদস্য সাকাদাউন সিয়াম ও সাদমান সাদাব।
এই ঘটনায় আদালত তাদের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। এরই মধ্যে সংগঠন থেকেও তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্র জানায়, এই চক্রে আরও অনেকে জড়িত থাকতে পারে এবং চাঁদার অংশ উর্ধ্বতনদের কাছে গেছে কিনা, সে সম্পর্কেও তদন্ত শুরু হয়েছে।
এই ঘটনা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ও সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা আলোচনা চলছে। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, যে বাসায় চাঁদাবাজি ঘটেছে, সেই বাসার মালিক সাবেক এমপি শাম্মীর কোনো দায় নেই কি? কেন তাকে এখনো একবারও জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হচ্ছে না? শিশিরের মতো অনেকেই মনে করছেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণেই শাম্মী আহমেদ এখনো ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন।
একটি গণতান্ত্রিক দেশে আইন সবার জন্য সমান হওয়া উচিত। একজন ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী বলে যদি তাকে তদন্তের বাইরে রাখা হয়, তবে সেটি দেশের বিচারব্যবস্থার প্রতি প্রশ্ন তুলবে। এনসিপি নেতা শিশিরের এই বক্তব্যের পর, দেশের নানা মহলে আবারও প্রশ্ন উঠেছে— ক্ষমতার প্রভাব কি বিচারকে ছাপিয়ে যাচ্ছে?