শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, সাতক্ষীরা:
সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটায় অবস্থিত সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে একটি অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছে। রবিবার, ২৭ জুলাই ২০২৫ তারিখে, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) অর্থ পরিচালক মোহাম্মদ সাইদুর রহমানের নেতৃত্বে একটি দল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে তদন্ত করতে আসে। এই তদন্তের পেছনে ছিল একটি বেনামি চিঠি, যা সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার জুলফিকার রহমানের তত্ত্বাবধানে অনৈতিক কাজের অভিযোগ এনেছিল।
তদন্তকারী দল যখন পাটকেলঘাটায় পৌঁছায়, তখন সমিতির কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তাদের উপস্থিতিতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। কারণ, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মাহফুজুর রহমান খান জানান যে, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় একটি আদেশ জারি করেছে যাতে বেনামি চিঠির ভিত্তিতে তদন্ত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আদেশে বলা হয়েছে, বেনামি চিঠি তদন্ত করা হলে তা কর্মকর্তাদের হয়রানির শামিল হবে।
অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে তদন্তকারী কর্মকর্তা সাইদুর রহমান বেনামি চিঠিগুলি ছিঁড়ে ফেলেন এবং তদন্ত বন্ধ করেন। তিনি বলেন, "আমি খুলনায় একটি অন্য কাজে এসেছিলাম, সেই সুযোগে এই চিঠির তদন্তেও এসেছিলাম। যদি সমিতির আপত্তি থাকে, আমি তদন্ত করবো না।"
ডিজিএম মাহফুজুর রহমান খান অভিযোগ করেন যে, আরইবি কর্তৃপক্ষের সাথে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব চলছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে তারা নিম্নমানের মালামাল ক্রয় করে সমিতির উপর দায় চাপিয়ে দেয় এবং সমিতির কর্মকর্তাদের সম্মানহানি করে। এই বেনামি চিঠির তদন্তের ঘটনাও সেই দ্বন্দ্বের একটি অংশ বলে তিনি মনে করেন।
তিনি আরও জানান, "যদি সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত হয়, আমরা অবশ্যই সহযোগিতা করবো। কিন্তু বেনামি চিঠির ভিত্তিতে তদন্ত মানেই উদ্দেশ্যমূলক হয়রানি।"
এই ঘটনার ফলে সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং এটি আরইবি ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মধ্যে সম্পর্কের আরও অবনতি ঘটাতে পারে। ভবিষ্যতে এই ধরনের পরিস্থিতি যাতে না ঘটে, সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তারা আশা করছেন যে, এ ধরনের বেনামি চিঠির মাধ্যমে কোনও কর্মকর্তার সম্মানহানি হবে না এবং তাদের কাজের পরিবেশ সুস্থ থাকবে।
এই ঘটনা একদিকে যেমন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তাদের জন্য হতাশার, অন্যদিকে আরইবি কর্তৃপক্ষের জন্যও একটি সতর্কবার্তা। এর মাধ্যমে বোঝা যায় যে, বেনামি অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও তদন্ত হলে তা সংশ্লিষ্ট সকলের জন্যই ক্ষতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে এবং স্বাধীনভাবে কাজ করার জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সুস্থ সম্পর্ক বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।