ছাত্র প্রতিনিধি পরিচয়ে চাঁদাবাজি: গুলশানে ধরা পড়লো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রভাবশালী মুখ.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

ছাত্র প্রতিনিধি পরিচয়ে চাঁদাবাজি: গুলশানে ধরা পড়লো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রভাবশালী মুখ..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
ছাত্র প্রতিনিধি পরিচয়ে চাঁদাবাজি: গুলশানে ধরা পড়লো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রভাবশালী মুখ..
ছাত্র প্রতিনিধি পরিচয়ে চাঁদাবাজি: গুলশানে ধরা পড়লো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রভাবশালী মুখ..
ছবি: সংগৃহীত
A student leader identifying as a representative of the Ministry of Home Affairs was caught red-handed in Gulshan while extorting money from a former female MP. Rashed Khan exposed his political ties ..

গুলশানে সাবেক নারী এমপির কাছে চাঁদা চাইতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়ে এক ছাত্র প্রতিনিধি, যিনি পরিচয় দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে। তার রাজনৈতিক যোগসূত্র ও ক্ষমতার অপব্যবহারের চিত্র ফাঁস করলেন রাশেদ খান।

রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানে সাবেক এক নারী সংসদ সদস্যের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের সময় হাতেনাতে ধরা পড়েছে আব্দুর রাজ্জাক বিন সুলাইমান নামের এক ব্যক্তি। ঘটনার গভীরে গিয়ে জানা গেছে, আটক ব্যক্তি নিজেকে পরিচয় দিয়েছে ‘ছাত্র প্রতিনিধি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়’ হিসেবে। শুধু তাই নয়, সে সরকারি কমিশনের একজন সদস্যও ছিলো বলে দাবি করা হচ্ছে।

এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এনেছেন গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন। তিনি নিজের ফেসবুক পেইজে একটি পোস্টে এই ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। রাশেদ খাঁন লেখেন, “আব্দুর রাজ্জাক বিন সুলাইমান একজন ছাত্র প্রতিনিধি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। সে বাগছাস (বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ)-এর কেন্দ্রীয় নেতাও। তবে ঘটনার পর সংগঠন থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।”

রাশেদ খাঁনের মতে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং একটি বৃহৎ চক্রের অংশ। তার ভাষায়, “প্রায় প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের ছাত্র প্রতিনিধি রয়েছে, যারা নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তার করছে। চাঁদাবাজি, তদবির, বদলি বাণিজ্য, এমনকি মামলাবাজি—সব ধরনের অপরাধে তাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এরা সরকারি দলের ছত্রছায়ায় থেকে এসব অপকর্ম করছে।”

এ ধরনের ছাত্র প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “যেখানে ছাত্র রাজনীতি দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার হাতিয়ার হওয়ার কথা, সেখানে আজ তা হয়ে উঠেছে চাঁদাবাজির অস্ত্র।”

তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের সময় এলেই কেন এরা চুপসে যায়? কারণ নির্বাচনের মাধ্যমে যদি প্রকৃত নেতৃত্ব উঠে আসে, তাহলে তাদের এই কোটি টাকার স্মার্ট চাঁদাবাজির সাম্রাজ্য ভেঙে পড়বে। এজন্যই এরা বিচার ও সংস্কারের নামে ৫ বছরের শ্লোগান তোলে, কিন্তু আদতে দেশকে পিছিয়ে দেওয়ার জন্যই কাজ করে।”

এই ঘটনার পর অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—সরকারি মন্ত্রণালয়ে এমন ছাত্র প্রতিনিধিদের ভূমিকা আসলে কী? তারা কি সত্যিই কোনো নীতিগতভাবে স্বীকৃত প্রতিনিধি, নাকি শুধুই রাজনৈতিক সুবিধাভোগী?

জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে, এই ধরনের পরিচয়ে চাঁদাবাজি করা ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি।

এদিকে, গুলশানের এই ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নেটিজেনরা বলছেন, "যেখানে সাধারণ মানুষ আইনের আশ্রয় পেতে হিমশিম খায়, সেখানে এইসব পরিচয়ধারীরা দাপটের সঙ্গে চাঁদাবাজি করছে—এটাই আজকের বাস্তবতা।"

এ ঘটনার পেছনে যেসব ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সহায়তা করেছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানাচ্ছেন সচেতন নাগরিকরা। অনেকে মনে করছেন, এভাবে সরকারি মন্ত্রণালয়ের নাম ব্যবহার করে অপরাধ করে যাওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে, সমাজে এই প্রবণতা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator