জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বরিশালে আয়োজিত সম্মেলনে জামায়াত নেতা মুঈযযম হেলাল বলেন— সব দল দেখে ফেলেছে মানুষ, এবার তারা Jamaat-e-Islami’র দিকেই তাকাবে। ফ্যাসিবাদকে রুখে দিতে হবে ইসলামী শাসনব্যবস্থার মাধ্যমে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের পূর্বাভাস দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল। তিনি বলেছেন, দেশের মানুষ এখন সব রাজনৈতিক দলকে দেখে নিয়েছে। কেউই মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সফল হয়নি। তাই এখন মানুষ Jamaat-e-Islami-র দিকেই তাকাচ্ছে নতুন বিকল্প হিসেবে।
শনিবার (২৬ জুলাই) বরিশাল নগরীর অশ্বিনী কুমার হল মিলনায়তনে আয়োজিত ‘ভোটকেন্দ্র প্রতিনিধি সম্মেলন’-এ এসব কথা বলেন তিনি। সম্মেলনে হাজারো কর্মী-সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।
মুঈযযম হেলাল বলেন, “এই দেশ আর ফ্যাসিবাদের কবলে থাকতে চায় না। আমরা ফ্যাসিবাদের সব পথ বন্ধ করে নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই। সেই বাংলাদেশে থাকবে না দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও অন্যায়।”
তিনি আরও বলেন, “দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। তারা ইসলামী শাসনব্যবস্থার মধ্যেই সত্যিকারের মুক্তি খুঁজে পাচ্ছে। Jamaat-e-Islami সেই পরিবর্তনের রূপরেখা দিতে প্রস্তুত।”
ভোটকেন্দ্র প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “সামনে আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। আমাদের পরিকল্পিতভাবে, ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামতে হবে। জনগণের রায় যেন সুষ্ঠুভাবে প্রতিফলিত হয়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।”
তিনি দাবি করেন, “যদি আমরা একসাথে পরিকল্পিতভাবে কাজ করি, তাহলে বিজয় শুধু সময়ের ব্যাপার— ইনশাআল্লাহ।”
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বরিশাল মহানগর জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা জাহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মহানগর সেক্রেটারি মাওলানা মতিউর রহমান।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বরিশাল জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আ. জব্বার, মহানগরীর নায়েবে আমীর প্রফেসর মাহামুদ হোসেন দুলাল প্রমুখ।
মুঈযযম হেলালের বক্তব্যে বারবার উঠে আসে “পরিবর্তন”, “ইসলামী শাসন”, এবং “দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ” গড়ার আকাঙ্ক্ষা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, Jamaat এবার নির্বাচনে সরাসরি অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং মাঠপর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে সম্মেলন ও প্রতিনিধি নিয়োগে মনোযোগী হয়েছে।
সব দলের ব্যর্থতায় সাধারণ জনগণ যখন হতাশ, তখন Jamaat-e-Islami নিজেকে তুলে ধরছে নতুন বিকল্প শক্তি হিসেবে। আগামী নির্বাচনে জনগণ সত্যিই তাদের কীভাবে নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।