কারাগারের ভিআইপি ওয়ার্ড পরিদর্শন নিয়ে যা বললেন ধর্ম উপদেষ্টা.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

কারাগারের ভিআইপি ওয়ার্ড পরিদর্শন নিয়ে যা বললেন ধর্ম উপদেষ্টা..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
কারাগারের ভিআইপি ওয়ার্ড পরিদর্শন নিয়ে যা বললেন ধর্ম উপদেষ্টা..
কারাগারের ভিআইপি ওয়ার্ড পরিদর্শন নিয়ে যা বললেন ধর্ম উপদেষ্টা..
ছবি: সংগৃহীত
Interim Government’s Religious Affairs Adviser clarified that his visit to Chattogram jail was fully authorized and official. He termed the VIP ward controversy a conspiracy by defeated political synd..

চট্টগ্রাম কারাগার পরিদর্শনের ভাইরাল ছবিকে কেন্দ্র করে মুখ খুললেন অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্ম উপদেষ্টা। বললেন, সফর ছিল স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার নির্দেশে এবং সরকারি অনুমোদিত। ভিআইপি ওয়ার্ড ঘিরে অপপ্রচার একটি কায়েমি সিন্ডিকেটের ষড়যন্ত্র।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার পরিদর্শন নিয়ে চলমান বিতর্কের জবাবে মুখ খুলেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই সফর ছিল সম্পূর্ণ সরকারি এবং মাননীয় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার প্রত্যক্ষ নির্দেশে আয়োজিত। সফর ঘিরে যে গুজব ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তা রাজনৈতিকভাবে পরাজিত শক্তির ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছু নয়।

শুক্রবার নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি স্ট্যাটাসে তিনি এসব কথা জানান। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, “সম্প্রতি আমি চট্টগ্রাম কারাগার পরিদর্শনে যাই, যেখানে আমার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ডিআইজি প্রিজন ও ডেপুটি জেলার। সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল কারাবন্দিদের ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিকতা এবং মূল্যবোধ অর্জনের জন্য কার্যক্রম শুরু করা।”

তিনি আরও লেখেন, “এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ধর্মীয় বই বিতরণ, ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ, এবং নামাজের স্থান নির্ধারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ হাতে নেয়া হচ্ছে। দেশের ৭০ হাজার বন্দিকে এই শিক্ষার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে, যা সমাজের জন্য বড় একটি মানবিক পদক্ষেপ।”

সফরের সময় কারাগারের রান্নাঘর, হাসপাতাল, পুরুষ, মহিলা ও শিশু ওয়ার্ড এবং ফাঁসির মঞ্চসহ প্রতিটি স্থান তিনি নিজে পরিদর্শন করেন বলে জানান। তিনি বলেন, “আমি ভিআইপি ওয়ার্ডে মাত্র দুই বা তিন মিনিট ছিলাম এবং এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও আমার সঙ্গে ছিলেন। কিন্তু এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিকৃত করে উপস্থাপন করা হচ্ছে।”

সবচেয়ে বিতর্কিত হয়েছে সফরকালীন একটি ছবি, যা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এই প্রসঙ্গে ড. খালিদ হোসেন বলেন, “পরিদর্শনের সময় আমার সঙ্গে কোনো ক্যামেরা ছিল না। তবে কারা কর্তৃপক্ষের একজন কর্মকর্তা কয়েকটি ছবি তুলেছিলেন, যেগুলো অনুমতি ছাড়াই বাইরে পাচার হয়েছে। এই কাজটি অবৈধভাবে প্রচারণা চালানোর উদ্দেশ্যে করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কারা কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।”

তিনি আরো বলেন, “এই সফরটি শুধু আইজি প্রিজন নয়, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং সংশ্লিষ্ট সকল সরকারি কর্মকর্তাকে অফিসিয়ালি জানানো হয়েছিল। সফরের প্রতিটি অংশ স্বচ্ছতা বজায় রেখে পরিচালিত হয়েছে, তাই ‘গোপনীয়তা’ শব্দটি এখানে প্রযোজ্য নয়।”

অপপ্রচারকারীদের উদ্দেশ্যে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, “এই অপপ্রচারের পেছনে রয়েছে কায়েমি স্বার্থবাদী একটি সিন্ডিকেট, যারা সরকারের শান্তিপূর্ণ উদ্যোগ এবং সমাজ কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডকে ব্যাহত করতে চায়। কিন্তু জনগণের সঙ্গে সরকারের যে ঐক্য রয়েছে, তা কোনো ষড়যন্ত্র দিয়ে ভাঙা যাবে না।”

তিনি লেখেন, “আমরা জানি, সত্যের জয় অবশ্যম্ভাবী। অপপ্রচার যতই হোক, আমাদের লক্ষ্য দেশের কল্যাণ, ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা এবং গঠনমূলক কর্মকাণ্ডকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।”

নিউজটি ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হওয়া আলোচনার জবাব হিসেবে এই বক্তব্যকে দেখা হচ্ছে। একদিকে যখন জনমনে প্রশ্ন উঠেছে একজন ধর্ম উপদেষ্টা কারাগারের ভিআইপি ওয়ার্ডে কেন, তখন অন্যদিকে তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা অনেক প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিয়েছে।

তিনি শেষ করেন এই বলে, “আমি বিনম্রভাবে বলছি, এসব অপপ্রচার অত্যন্ত দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য। যারা রাজনৈতিকভাবে পরাজিত, তারাই আজ অপপ্রচার আর গুজবের আশ্রয় নিচ্ছে। কিন্তু জনগণ এখন অনেক সচেতন—তারা জানে কী সত্য আর কী মিথ্যা।”

لم يتم العثور على تعليقات


News Card Generator