দেশের জন্য একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে চান সিইসি নাসির উদ্দীন। ব্যক্তিগত স্বার্থ নয়, জীবনের শেষ প্রান্তে জাতির কল্যাণেই কাজ করতে চান তিনি।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেছেন, জীবনের এই শেষ প্রান্তে এসে তার কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই, বরং দেশের জন্য একটি ভালো ও স্থায়ী কাজ করে যাওয়াই এখন তার একমাত্র লক্ষ্য। তিনি মনে করেন, জাতিকে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া তার বর্তমান দায়িত্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
শুক্রবার যশোর কালেক্টরেট মসজিদে জুমার নামাজের আগে মুসল্লিদের উদ্দেশে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। খুলনায় সফরের পথে যশোরে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতিতে এই মসজিদে তিনি নামাজ আদায় করেন এবং মসজিদে উপস্থিত মুসল্লিদের সঙ্গে কিছু সময় অতিবাহিত করেন।
সিইসি বলেন, “আমার দীর্ঘ চাকরি জীবনে আমি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছি এবং সে অভিজ্ঞতা থেকে অনেক কিছু শিখেছি। কিন্তু এখন যে দায়িত্ব আমার কাঁধে এসেছে, তা অতীতের সব দায়িত্বের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল। কারণ, একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাই নিশ্চিত করে না, বরং দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের ভিত্তিকেও মজবুত করে।”
তিনি আরও বলেন, “এই কাজ আমি একা করতে পারব না। এজন্য প্রয়োজন দেশবাসীর পূর্ণ সহযোগিতা, সহনশীলতা এবং সদিচ্ছা। নির্বাচন কমিশনের প্রতি সবার আস্থা এবং সম্মান বজায় রাখতে হলে আমাদের সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, গণতন্ত্রকে সুসংহত করার এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়াটা শুধু নির্বাচন কমিশনের কাজ নয়, বরং এটা রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, নাগরিক সমাজ এবং প্রতিটি সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব।
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি ঢাকায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের জন্য মসজিদে উপস্থিত সবার কাছে দোয়ার আবেদন জানান। একই সঙ্গে তিনি মাইলস্টোন স্কুলের দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থীদের স্মরণে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন এবং গভীর শোক প্রকাশ করেন।
উক্ত সফরকালে তার সঙ্গে ছিলেন যশোরের জেলা প্রশাসক মো. আজাহারুল ইসলাম, স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের এই মানবিক ও দায়িত্বশীল বক্তব্য দেশবাসীর মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। অনেকেই মনে করছেন, তিনি সত্যিকার অর্থেই গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনী পরিবেশ প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।