শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, সাতক্ষীরা :
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার আটারই গ্রামে ঘটে যাওয়া একটি মর্মান্তিক ঘটনায় মাদকাসক্ত ছেলের মৃত্যুর দায়ে তার মা পারুল বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পারুল বেগম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন যেখানে তিনি ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত হাবিবুর রহমান (৩৫) একজন ভ্যানচালক এবং মাদকাসক্ত। তার মা পারুল বেগম একজন দিনমজুর। হাবিবুরের মাদকাসক্তির কারণে তার পরিবারের উপর নানাবিধ চাপ পড়ে।
পারুল বেগম জানিয়েছেন, তার মেয়ে সুমাইয়াকে বিয়ে দেওয়ার পর থেকেই তিনি মজুরি খেটে জীবন নির্বাহ করেন। হাবিবুর মাদকাসক্ত হয়ে পড়লে তার জীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। দুই বছর আগে হাবিবুরের বিয়ে হয় দক্ষিণ আটারই গ্রামের শান্তা খাতুনের সাথে এবং তাদের একটি দশ মাস বয়সী সন্তান রয়েছে।
ঘটনার দিন, সোমবার রাত ৯টার দিকে হাবিবুর বাড়ি ফেরত আসেন এবং তার মায়ের কাছে মোটরসাইকেল কেনার জন্য টাকা দাবি করেন। পারুল বেগম টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে হাবিবুর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং মাকে মারতে যান।
পারুল বেগম ও পুত্রবধূ শান্তা তাকে শান্ত করতে গেলে ধাক্কাধাক্কিতে হাবিবুর মাটিতে পড়ে যায় এবং তার হাতে থাকা কাস্তে তার নিজের কপালে ও গলায় লাগে। আহত অবস্থায় তাকে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মাঈনুদ্দিন জানান, হাবিবুরের কপালে ও গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পারুল বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তিনি আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।
মঙ্গলবার হাবিবুরের ময়নাতদন্ত শেষ করে স্বজনদের হাতে তার লাশ তুলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শান্তা খাতুন বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন, যার আসামি হিসাবে পারুল বেগমের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। সাতক্ষীরার বিচারিক হাকিমের কাছে পারুল বেগম তার স্বীকারোক্তিতে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সমাজে মাদকাসক্তির কুফল ও পারিবারিক সহিংসতার বিষয়টি পুনরায় আলোচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদকের প্রতি আসক্তি কেবল ব্যক্তির জীবনই নয়, তার পারিবারিক ও সামাজিক জীবনকেও ধ্বংস করে দিতে পারে। সমাজে এমন ঘটনা প্রতিরোধে মাদক বিরোধী কার্যক্রম এবং সচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।
ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সমাজকে আরও সতর্ক হতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। স্থানীয় প্রশাসন ও কমিউনিটি লিডাররা একসাথে কাজ করলে মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে লড়াই আরও ফলপ্রসূ হতে পারে।