রাজধানীর উত্তরায় বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ১৬ জন নিহত এবং ৪৮ জন দগ্ধ হয়েছেন। বার্ন ইউনিটে জরুরি হটলাইন চালু করা হয়েছে। আহতদের রক্তদান ও সাহায্যের আহ্বান জানানো হয়েছে।
রাজধানীর উত্তরা এলাকায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসের কাছে একটি বাংলাদেশের বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে, যার ফলে অন্তত ১৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং ৪৮ জন দগ্ধ হয়েছে। আহত ও দগ্ধদের জরুরি চিকিৎসার জন্য জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে বিশেষ হটলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে, যা হলো ০১৯৪৯০৪৩৬৯৭। এই নম্বরে জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর আহতদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ, কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল, উত্তরা উইমেন্স মেডিকেল কলেজ ও মনসুর আলী মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করা হয়েছে। এই হাসপাতালগুলোতে দগ্ধদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে রক্তের তীব্র অভাব দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর থেকে বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে প্রায় ৬০ জন আহতকে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩০ থেকে ৩৫ জনকে ভর্তি রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “এই দুর্ঘটনায় অনেকের জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। আমরা তৎপরতার সাথে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছি।”
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনাটি ঘটে দুপুর ১টা ৬ মিনিটে বিমানটি উড্ডয়নের পর কয়েক মিনিটের মধ্যে। পাইলট ছিলেন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলাম সাগর, যিনি একাই বিমানটি চালাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত চলছে।
এমন সময়ে, আহত ও দগ্ধদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য রক্তের ব্যবস্থা জরুরি হয়ে পড়েছে। সাধারণ জনগণকে রক্তদানে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যাতে আহতদের জীবন রক্ষা সম্ভব হয়।
সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা আহতদের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ সহযোগিতা দিচ্ছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এই দুর্ঘটনা দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর একটি বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নিহত ও আহতদের পরিবারদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে।