শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, সাতক্ষীরা:
সাতক্ষীরা জেলা শহরের কাটিয়া এলাকায় পুরাতন ডাকবাংলোর সামনে সোমবার (১৪ জুলাই '২৫) দুপুরে 'জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ'-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহম্মেদ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবুল হাসেম, জেলা সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল সালাম, জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সাতক্ষীরা জেলা শাখার আহ্বায়ক আরাফাত হোসেন ও মুখপাত্র মোহিনি।
এ স্মৃতিস্তম্ভটির উচ্চতা হবে ১৮ ফুট এবং প্রস্থ ৬ ফুট। ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য এই স্মৃতিস্তম্ভে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজপথে উচ্চারিত প্রেরণামূলক শ্লোগানসমূহ খোদাই করে রাখা হবে। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের যৌথ অর্থায়নে স্মৃতিস্তম্ভটি নির্মাণ করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করেন। জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহম্মেদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, 'জুলাই আন্দোলনে বীর শহীদদের স্মরণে এই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হচ্ছে। এটি দেশের ৬৪ জেলাতেই নির্মিত হবে। আশা করছি, আগামী ৫ আগস্টে এই স্মৃতিস্তম্ভে জুলাই শহীদদের স্মরণে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা সম্ভব হবে।'
জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট উল্লেখযোগ্য। ২০২৪ সালে সারা দেশে ঘটে যাওয়া গণআন্দোলন একটি বিশেষ প্রভাব ফেলেছিল। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা আন্দোলনটিতে প্রচুর মানুষ আহত ও নিহত হন। এ আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল বৈষম্যের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা এবং সমান অধিকারের দাবিতে সংগ্রাম করা। এই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণেই এই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের মাধ্যমে দেশের নতুন প্রজন্মের কাছে সেই আন্দোলনের প্রেরণা ও ত্যাগের ইতিহাস পৌঁছে দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি শুধু একটি স্মৃতিস্তম্ভ নয়, বরং একটি সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে দেশের তরুণ সমাজের মাঝে দেশপ্রেম ও সমাজসেবার মানসিকতা জাগিয়ে তোলা হবে।