সাতক্ষীরায় জলাবদ্ধতা নিরসনে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নজিরবিহীন উদ্যোগ.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

সাতক্ষীরায় জলাবদ্ধতা নিরসনে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নজিরবিহীন উদ্যোগ..

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার: avatar   
শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার:
সাতক্ষীরায় জলাবদ্ধতা নিরসনে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নজিরবিহীন উদ্যোগ..
সাতক্ষীরায় জলাবদ্ধতা নিরসনে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নজিরবিহীন উদ্যোগ..
ছবি: সংগৃহীত
সাতক্ষীরার জলাবদ্ধতা নিরসনে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বিষ্ণুপদ পালের প্রখর উদ্যোগের ফলে পৌরবাসীর কষ্ট লাঘব হয়েছে..

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, সাতক্ষীরা :

সাতক্ষীরা পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে টানা বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা চরম আকার ধারণ করেছিল। এই জলাবদ্ধতার কারণে পৌরবাসীকে অমানবিক কষ্টের সম্মুখীন হতে হচ্ছিল। তবে, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বিষ্ণুপদ পাল এই পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য যেভাবে উদ্যোগ নিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।

শুক্রবার (১১ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে বিষ্ণুপদ পাল প্রখর রৌদ্রতাপ উপেক্ষা করে মধ্য কাটিয়া ও গদাই বিলের প্রায় অর্ধ শতাধিক অপরিকল্পিত ঘেরের বেঁড়িবাধ উন্মুক্ত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। তিনি নিজে হাঁটুজল মাড়িয়ে এবং কখনো নৌকায় চড়ে, মৎস্যঘেরের দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে এলাকার মানুষকে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তির উপায় করে দিয়েছেন। 

পৌরবাসীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে জেলা প্রশাসনের এই পদস্থ কর্মকর্তা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। জানা যায়, জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে মাঠে কোনো জনপ্রতিনিধির উপস্থিতি না থাকায় প্রশাসনকেই সকল দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। বিষ্ণুপদ পাল নিজেই ঘেরের মালিকদের তথ্য নোট করে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। তার এই উদ্যোগের ফলে সড়কে জমে থাকা পানি দ্রুত নেমে যায় এবং জনজীবন স্বাভাবিক হয়।

কাটিয়া এলাকার বাসিন্দা মনোয়ারা বেগম বলেন, "এডিসি স্যারের মত মানুষ আমি জীবনেও দেখিনি। জেলার সর্বোচ্চ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা হয়েও তিনি যেভাবে মাঠ-ঘাট, ঘের-ভেড়ি চষে বেড়িয়েছেন, সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে কাজ করেছেন তা সত্যিই বিরল। স্যারের জন্য দোয়া করি।"

এদিকে, স্থানীয়দের মতে, সরকারি কর্মকর্তারা সাধারণত হুকুম দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেন, কিন্তু বিষ্ণুপদ পাল মাঠে নেমে কাজ করে এক নজির স্থাপন করেছেন। সাতক্ষীরা গদাইবিলের মৎস্যঘেরের উপর দিয়ে পানি নিষ্কাশনের পথ উন্মুক্ত করার সময় পৌরসভার স্যানিটারী ইন্সপেক্টর রবিউল আলম লাল্টু, কার্য সহকারী আব্দুল মোতালেব ও তুষার চৌধুরী, সমাজ সেবিকা মৌমি কুইন সাথী এবং অন্যান্য স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। 

বিষ্ণুপদ পালের এই উদ্যোগে স্যানিটেশন সমস্যা থেকে অনেক পরিবার মুক্তি পেয়েছে। রান্নাঘরের পানি দ্রুত সরে যাওয়ার ফলে স্বাচ্ছন্দ্য ফিরে এসেছে। সাধারণ মানুষ তার এই উদ্যোগের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে এবং তার মতো কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator