শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, সাতক্ষীরা:
সাতক্ষীরার তালা উপজেলা সদরের এক নবম শ্রেণির ছাত্রী অপহরণের ৩৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও উদ্ধার হয়নি। ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভিকটিমের পরিবার। তালা সদরের এক গৃহবধূ জানিয়েছেন, তার মেয়ে স্থানীয় একটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী। স্কুলে ও প্রাইভেট পড়তে যাতায়াতের সময় গোনালী গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী সুকুমার হালদারের ছেলে দীগন্ত হালদার তাকে দীর্ঘদিন ধরে উত্যক্ত করে আসছিল।
বিষয়টি দীগন্তের পরিবারের সদস্যদের জানানো হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে মেয়েটিকে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় দীগন্ত এবং তার সহযোগীরা মিলে গাড়িতে করে অপহরণ করে। সম্ভাব্য সকল জায়গায় খোঁজাখুঁজির পর মেয়েকে না পেয়ে তার পরিবারের সদস্যরা দীগন্তের বাড়িতে গেলে তাদের হুমকি দিয়ে বের করে দেওয়া হয়।
এ ঘটনার পর মেয়েটির মা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তবে অভিযোগের ২৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখনো মামলা নেয়নি এবং মেয়েটিকে উদ্ধার করতে পারেনি। এদিকে অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য অপহরণকারীদের পরিবারের সদস্যরা হুমকি দিচ্ছে। ফলে মেয়েটির পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মাঈনুদ্দীন এই বিষয়ে জানান যে, অভিযোগ পাওয়ার পর থেকে পুলিশ ও পরিবারের পক্ষ থেকে উদ্ধার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে এখনো সাফল্য আসেনি। তাদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে মামলা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে দীগন্ত হালদার ও তার বাবা সুকুমার হালদারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
অপহৃত ছাত্রীর নাম অন্তরা রায় (১৪)। তার বাবা মিঠুন রায় এবং মা পূর্ণিমা রায়। অন্তরা তালা শহীদ আলী আহম্মেদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী। এ ঘটনা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং মানবাধিকার কর্মীরা বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে স্থানীয় সমাজ ও প্রশাসনের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাচ্ছেন সচেতন মহল। অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে অন্তরা রায়কে নিরাপদে উদ্ধার করা হবে এমনটাই প্রত্যাশা করছে তার পরিবার ও স্থানীয় জনগণ।