ফেসবুকে জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহকে প্রকাশ্যে হুমকি, নাটোরের বড়াইগ্রামে ডিবির হাতে যুবক গ্রেফতার। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে হুমকির ঘটনায় তৎপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় রাজনৈতিক উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে একটি ফেসবুক মন্তব্য। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহকে ফেসবুকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এক যুবককে গ্রেফতার করেছে।
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির নাম খোরশেদ আলম (৪০)। তিনি উপজেলার আগ্রান গ্রামের বাসিন্দা এবং আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে। রোববার (৬ জুলাই) রাতেই তার নিজ বাড়ি থেকে ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
সূত্র জানায়, এনসিপির জুলাই মাসব্যাপী পদযাত্রার অংশ হিসেবে বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়ায় সোমবার একটি পথসভার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে প্রচারণাও চলছিল। ঠিক এই সময় ‘এসকে শারমিন খোরশেদ আলম’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে একটি পোস্ট দেওয়া হয়, যাতে লেখা ছিল:
একটু আগে এক জাগাত হাসনাত মার খাইছে এলাকাবাসীর, আসুক বনপাড়া, দেখি আমরা কি করতে পারি।
এই প্রকাশ্য হুমকির ঘটনায় এনসিপির পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং বিষয়টি নাটোর গোয়েন্দা পুলিশকে জানানো হয়। পরে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় কমেন্টকারী হিসেবে চিহ্নিত খোরশেদ আলমকে শনাক্ত করে গ্রেফতার করে ডিবি।
বড়াইগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম সারওয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “ফেসবুকে দেওয়া ওই মন্তব্য নিয়ে তদন্ত করা হয় এবং ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, হুমকির পোস্টটি সরাসরি রাজনৈতিক নেতার নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশে বিঘ্ন ঘটাতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে এনসিপি নেতারা এ ঘটনাকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ বলে দাবি করেছেন। দলটির একাধিক নেতা বলেন, “শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ব্যাহত করতে ইচ্ছাকৃতভাবে এমন উসকানিমূলক মন্তব্য ছড়ানো হয়েছে। আমরা এর পেছনের মদদদাতাদেরও তদন্ত করে দেখার দাবি জানাই।”
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ডিজিটাল মাধ্যমে রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে হুমকিমূলক মন্তব্য এখন দিনদিন বেড়ে চলেছে। প্রযুক্তির ব্যবহার যেমন ইতিবাচক দিক দেখাচ্ছে, তেমনি নেতিবাচক এবং সহিংস উত্তেজনার জন্ম দিচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যবহার।
তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় স্থানীয়রা আশ্বস্ত হয়েছেন বলেও জানা গেছে।