উত্তর গাজার বেইত হানুনে রাস্তার পাশে পুঁতে রাখা বোমার বিস্ফোরণে ৫ ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছে, আহত আরও ১৪ জন। দুই সেনার পরিচয় প্রকাশ, বাকি নাম গোপন। হামলার পর অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বাড়ছে।
গাজায় স্থল অভিযান চালাতে গিয়ে বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছেন পাঁচজন ইসরায়েলি সেনা। আহত হয়েছেন আরও ১৪ জন। হামাস নিয়ন্ত্রিত উত্তর গাজার বেইত হানুন এলাকায় রাস্তার পাশে পুঁতে রাখা শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণের ফলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আইডিএফ (ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্স) জানিয়েছে, এই বিস্ফোরণ সোমবার রাত ১০টার কিছু পর ঘটে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, ঘটনার সময় ইসরায়েলি পদাতিক সৈন্যরা হেঁটে অভিযান পরিচালনা করছিলেন। তারা কোনো যানবাহনে ছিলেন না। রাস্তার ধারে পুঁতে রাখা বোমাটির বিস্ফোরণে সঙ্গে সঙ্গেই পাঁচজন সেনা নিহত হন এবং আরও ১৪ জন গুরুতর আহত হন, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
আইডিএফ জানায়, নিহতদের মধ্যে দুই সেনার নাম প্রকাশ করা হয়েছে। তারা হলেন—
স্টাফ সার্জেন্ট মেয়ার শিমোন আমার (২০)
সার্জেন্ট মোশে নিসিম ফ্রেচ (২০)
তারা উভয়েই জেরুজালেমের বাসিন্দা এবং নেতজাহ ইয়েহুদা ব্যাটালিয়নের সদস্য ছিলেন। বাকিদের নাম পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
উদ্ধার তৎপরতার সময় গোলাগুলির ঘটনা ঘটে, যার ফলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেনারা আহতদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য সরিয়ে নেয়। আহতদের মধ্যে অন্তত দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বিস্ফোরণ ইসরায়েলের গাজা অভিযানকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই ধরণের ঘটনা ইসরায়েলি প্রতিক্রিয়াকে আরও আক্রমণাত্মক করে তুলবে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।
স্থানীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় গাজায় ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ৪০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নারী ও শিশুরাও এই হতাহতের তালিকায় রয়েছে।
এদিকে ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে গাজার সাম্প্রতিক অবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়।
ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, গাজায় সেনা হতাহতের ঘটনাগুলো দুঃখজনক হলেও, তা যুদ্ধবিরতি আলোচনাকে থামাবে না। আমরা চাই দ্রুত একটি মানবিক সমাধান হোক।
অন্যদিকে নেতানিয়াহু যুদ্ধের ন্যায্যতা তুলে ধরে বলেন, "আমাদের সেনারা যে ত্যাগ স্বীকার করছে, তা গাজাকে সন্ত্রাসমুক্ত করার জন্য। এই যুদ্ধ আমাদের নিরাপত্তার লড়াই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধবিরতি আলোচনা যতই চলুক, গাজা ও ইসরায়েল দুই পক্ষই পাল্টা প্রস্তুতিতে রয়েছে। একদিকে আন্তর্জাতিক চাপে যুদ্ধ থামানোর দাবি উঠছে, অন্যদিকে মাঠে চলছে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। এই প্রেক্ষাপটে বেইত হানুনে পাঁচ সেনার মৃত্যুর ঘটনা নতুন করে আগুনে ঘি ঢেলেছে।