সিলেটে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমেই দেশে গণতন্ত্র ফিরবে এবং জনগণের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে।
আগামী ফেব্রুয়ারিতে একটি নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ গণতন্ত্রে ফিরবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার সিলেট সফরে এসে হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজার জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা আশা করছি বাংলাদেশের মানুষ যে সংগ্রাম করেছে, তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য, সেটা এখন বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। ফেব্রুয়ারিতে একটি নির্বাচন হবে, এবং সেই নির্বাচনের মধ্য দিয়েই দেশ আবার গণতন্ত্রের পথে ফিরবে।”
তিনি জানান, সম্প্রতি লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দলের প্রধান উপদেষ্টার বৈঠকে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেই আলোচনার ভিত্তিতে ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে দলের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।
সকালেই সিলেটে এসে তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফেরাত কামনায় এবং খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিলে অংশ নেন। এরপর তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.) এর মাজার জিয়ারত করেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, বিগত ১৫ বছর ধরে আমরা একটি ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছি। আমাদের ৬০ লাখেরও বেশি নেতাকর্মীর নামে মিথ্যা মামলা হয়েছে। কয়েক হাজার নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন, ১৭০০ জনের বেশি গুম হয়েছেন। সিলেটের সাহসী নেতা এম ইলিয়াস আলীর গুমের কথাও ভুলে গেলে চলবে না।
তিনি আরও বলেন, এই লড়াই শুধু বিএনপির নয়, এটি বাংলাদেশের সকল গণতান্ত্রিক মানুষের লড়াই। আমরা বিশ্বাস করি, ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হবে সেই টার্নিং পয়েন্ট, যেখান থেকে দেশ রাইট ট্র্যাকে ফিরে আসবে। জনগণের হারিয়ে যাওয়া অধিকার আবার প্রতিষ্ঠিত হবে।
বিএনপির পক্ষ থেকে জুলাই ও আগস্টের আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সহানুভূতি প্রকাশ করে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান এই আন্দোলনে যারা আত্মত্যাগ করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমরা তাঁদের স্মরণ করছি, তাঁদের ত্যাগ যেন বৃথা না যায়।
নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সমঝোতার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আলোচনার দরজা বন্ধ নয়, তবে সেটি হতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজনের ভিত্তিতে। অন্যথায় জনগণ আর কোনো পাতানো নির্বাচনের ফাঁদে পা দেবে না।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি কার্যকর আলোচনার পরিবেশ তৈরি হবে, যা দেশের জন্য কল্যাণকর হবে।