বিশ্ব রাজনীতির উত্তাল মুহূর্তে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল আব্দুর রহিম মুসাভি এক বিস্ফোরক দাবি করে জানালেন— ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়ার জন্য শত্রুরা অন্তত ১৫ বছর ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছিল। একে শুধু যুদ্ধ নয়, বরং একটি সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র বলেই আখ্যা দিলেন তিনি। এই ষড়যন্ত্রের মূল লক্ষ্য ছিল ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানকে ধ্বংস করে রাষ্ট্রটিকে ছিন্নভিন্ন করে দেওয়া।
মেজর জেনারেল মুসাভি বলেন,শত্রুরা আমাদের অভ্যন্তরে গুপ্তচর ঢুকিয়েছে, বহু বছর ধরে তাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে, সমাজকে বিভক্ত করার চেষ্টা করেছে। তারা জানত, সরাসরি আক্রমণ যথেষ্ট নয় — মনস্তাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক আঘাতও দরকার।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরানের ইসলামি শাসনব্যবস্থাকে ধ্বংস করাই ছিল এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য। এবং তারা মনে করেছিল, কিছু নীরব বিভ্রান্তি, কিছু অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অশান্তি সৃষ্টি করলেই ইরান ভেঙে পড়বে।
শত্রুদের এই দীর্ঘমেয়াদী ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেন মুসাভি। তিনি বলেন,ওরা ভুল করে আমাদের নেতৃত্ব, জনগণ ও সামরিক শক্তিকে অবমূল্যায়ন করেছিল। ইরান শুধু প্রতিরোধ নয়, এখন পাল্টা আঘাত হানার প্রস্তুতিতে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ীর প্রজ্ঞাবান নেতৃত্ব এবং জনগণের অদম্য মনোবল ছিল এই ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করার প্রধান হাতিয়ার। সশস্ত্র বাহিনীও নিরবচ্ছিন্ন প্রস্তুতির মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ছাড় দেয়নি।
জেনারেল মুসাভি আরও এক হৃদয়স্পর্শী বার্তা দিয়েছেন—আমরা শহীদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষা করব, আমাদের পতাকা কখনও নিচু হবে না। আমাদের জাতি সহজে স্বাধীনতা অর্জন করেনি, আর এখন তা রক্ষা করতেও আমরা একচুল পিছু হটব না।
ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে— এবার আর প্রতিরক্ষা নয়, প্রয়োজন হলে আক্রমণাত্মক অবস্থানে যাবে তারা। কোনো শক্তিই তাদের শাসনব্যবস্থা বা রাষ্ট্রীয় ঐক্যকে ভাঙতে পারবে না।
বিশ্লেষণ বলছে, এই বক্তব্য শুধু প্রতিক্রিয়া নয় — বরং পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোর প্রতি কৌশলগত হুঁশিয়ারি। ইরানের সামরিক বাহিনী যে আড়ালে নয়, চূড়ান্তভাবে সক্রিয় রয়েছে — তা আবারও প্রমাণিত হলো।
১৫ বছরের এক নিঃশব্দ যুদ্ধের কাহিনি আজ প্রকাশ্যে। যারা ভেবেছিল ইরান দুর্বল — তারা হয়তো খুব শিগগিরই অন্য এক বাস্তবতার মুখোমুখি হতে চলেছে।