সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম বিভাগের নতুন ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন তরুণ সুফি স্কলার মুফতি শাহ সুফি ফয়জুল কবির বদরী। সংগঠনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে তাকে এই নতুন দায়িত্ব প্রদান করা হয়। চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সভাপতি জাফর ইকবালের হাত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয়পত্র গ্রহণের মাধ্যমে তিনি তার নতুন কর্মজীবন শুরু করেছেন। এই নিয়োগের মূল উদ্দেশ্য হলো চট্টগ্রাম অঞ্চলে মানবাধিকার কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ধর্মীয় সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চাকে তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া। সংগঠনের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, মুফতি ফয়জুল কবির বদরীর মতো একজন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের অন্তর্ভুক্তিতে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ হবে এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণে সংগঠনের কার্যক্রম আরও বেগবান হবে। মূলত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ে ধর্মীয় নেতৃত্বের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর মুফতি শাহ সুফি ফয়জুল কবির বদরী তার প্রতিক্রিয়ায় অর্পিত দায়িত্বকে একটি আমানত হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, মানবাধিকার ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় তিনি সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করতে বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে বর্তমান সমাজে বিদ্যমান বিভেদ, বৈষম্য এবং অসহিষ্ণুতার মতো নেতিবাচক প্রবণতাগুলো দূর করতে ধর্মীয় ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে কাজ করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। তার মতে, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সম্প্রীতির পরিবেশ তৈরির মাধ্যমেই একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন সম্ভব। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করছেন যে, তার সুদীর্ঘ জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম বিভাগে অসহায় মানুষের অধিকার রক্ষায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। ভুক্তভোগী ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষায় তার এই সম্পৃক্ততা সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থার জায়গা তৈরি করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও মানবাধিকারের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে কাজ করার জন্য এমন নেতৃত্বের প্রয়োজন ছিল, যিনি একইসাথে আধ্যাত্মিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতায় অবিচল। চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি জাফর ইকবালসহ উপস্থিত অন্যান্য নেতৃবৃন্দ তাকে অভিনন্দন জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন যে, তার নেতৃত্বে সংগঠনের ধর্মবিষয়ক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে। প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক পর্যায়ে মানবাধিকারের প্রচারণায় ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণকে বর্তমান সময়ে অত্যন্ত জরুরি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই নিয়োগের ফলে মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের চট্টগ্রাম শাখার কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চারিত হবে এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে তারা আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মূলত প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতাকে সমুন্নত রাখাই এই নতুন নেতৃত্বের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পরিশেষে, মুফতি শাহ সুফি ফয়জুল কবির বদরীর এই নতুন দায়িত্ব গ্রহণ চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানবাধিকার ও সামাজিক সচেতনতা খাতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। ধর্মীয় শিক্ষার আলোকে মানবিক অধিকার ও সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠার যে অঙ্গীকার তিনি ব্যক্ত করেছেন, তা বাস্তবায়ন করা গেলে সমাজে অস্থিরতা হ্রাস পাবে এবং সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় হবে। সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগ কেবল একটি সাংগঠনিক রদবদল নয়, বরং এটি মানবাধিকার আন্দোলনের সাথে ধর্মীয় মূল্যবোধের এক মেলবন্ধন। আগামী দিনগুলোতে তার কার্যক্রম কতটুকু সফলভাবে তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে এবং সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় তিনি কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন, সেদিকেই এখন নজর থাকবে সচেতন মহলের। তার এই পদায়ন মানবাধিকার রক্ষায় সংগঠনের সামাজিক ভূমিকা ও গ্রহণযোগ্যতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।