কুমিরা আবাসিক বালিকা স্কুলে অর্ধকোটি টাকার হিসাবের গরমিলের অভিযোগ, তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি
এম জামশেদ আলম
সীতাকুণ্ড চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কুমিরা আবাসিক বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাত বছরের আর্থিক কার্যক্রমের অডিটে প্রায় অর্ধকোটি টাকার হিসাবের গরমিলসহ একাধিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আর্থিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করে করা অডিটে সম্ভাব্য আয় ও হিসাবভুক্ত আয়ের মধ্যে ৪৫ লাখ ৯৯ হাজার টাকার পার্থক্য, সরকারি উপবৃত্তির অর্থ উত্তোলনের পূর্ণাঙ্গ হিসাব না থাকা, বিপুল নগদ লেনদেন, সাদা কাগজে বিল-ভাউচার, ‘ঋণ’ হিসেবে দেখানো অর্থের নথি না থাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি সংরক্ষণে ঘাটতির তথ্য উঠে এসেছে।
এ ছাড়া ২০২৩ সালে পিবিজিএসআই প্রকল্পের ৫ লাখ টাকা উত্তোলন ও ব্যয়ের হিসাব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে অডিট। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সীতাকুণ্ড উপজেলা প্রশাসন পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
গত ১১ আগস্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জারি করা অফিস আদেশে অভিযোগগুলো সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই আদেশে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অনুমতিক্রমে কমিটিতে সদস্য কো-অপ্ট করার সুযোগও রাখা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে স্থানীয় নাগরিক মো. নিজাম উদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে লিখিত আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযোগের বিষয়গুলো যাচাই করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
তবে অডিট প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগ এখনো চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। তদন্ত শেষে অভিযোগগুলোর সত্যতা, অর্থের প্রকৃত অবস্থান এবং কারও দায় রয়েছে কি না, তা নির্ধারণ হওয়ার কথা।
সম্ভাব্য আয় ২ কোটি ৮৮ লাখ, হিসাবে ২ কোটি ৪২ লাখ
অডিট প্রতিবেদনের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য আয় ও হিসাবভুক্ত আয়ের মধ্যে পার্থক্য নিয়ে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের (ইএমআইএস) তথ্য অনুযায়ী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও নির্ধারিত ফি বিবেচনায় ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য আয় হওয়ার কথা ২ কোটি ৮৮ লাখ ৬২ হাজার টাকা। বিপরীতে ক্যাশবুকে আয় দেখানো হয়েছে ২ কোটি ৪২ লাখ ৬৩ হাজার টাকা।
দুই হিসাবের মধ্যে পার্থক্য দাঁড়িয়েছে ৪৫ লাখ ৯৯ হাজার টাকা।
তবে অডিট প্রতিবেদনে এই পার্থক্যকে সরাসরি আত্মসাৎ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। অধ্যক্ষ মো. নাসির উদ্দিনের ব্যাখ্যা, ইএমআইএসে অন্তর্ভুক্ত অনেক শিক্ষার্থী পরবর্তী সময়ে ঝরে পড়ায় তাঁদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফি আদায় করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে সম্ভাব্য আয় ও প্রকৃত আদায়ের মধ্যে পার্থক্য তৈরি হয়েছে।
তদন্তে তাই ইএমআইএসে থাকা শিক্ষার্থীদের প্রকৃত সংখ্যা, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর তথ্য, ফি আদায়ের রেকর্ড এবং অনাদায়ী ফি-এর নির্ভরযোগ্য নথি যাচাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ব্যাংকে জমা ৩৮ লাখ টাকা
প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক লেনদেন নিয়েও অডিটে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
সাত বছরে ক্যাশবুকে মোট আয় দেখানো হয়েছে ২ কোটি ৪২ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। এর বিপরীতে জনতা ব্যাংকের মূল হিসাবে জমা হয়েছে ৩৮ লাখ ৫ হাজার টাকা। ফলে ক্যাশবুকে দেখানো আয় ও ব্যাংকে জমা অর্থের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে।
অবশিষ্ট অর্থের বড় অংশ নগদে গ্রহণ ও ব্যয় দেখানো হয়েছে বলে অডিট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সাত বছরের ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ক্যাশবুক ও আয়-ব্যয়ের রেকর্ড মিলিয়ে এই পার্থক্যের কারণ অনুসন্ধান করতে হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
উপবৃত্তির ৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকা উত্তোলন
সরকারি উপবৃত্তির অর্থ ব্যবস্থাপনাতেও অডিটে অসংগতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
অগ্রণী ব্যাংকের সীতাকুণ্ড শাখায় সরকারি উপবৃত্তির জন্য খোলা হিসাব থেকে ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত মোট ৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়। এর মধ্যে ২০২৪ সালের ৩ জানুয়ারি একবারে ৫ লাখ টাকা উত্তোলন করা হলেও ওই লেনদেন চেক রেজিস্টারে যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ ছিল না বলে অডিট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
উত্তোলন করা অর্থ কোন খাতে ব্যয় করা হয়েছে, তার সমর্থনে সন্তোষজনক নথিপত্রও পাওয়া যায়নি বলে অডিট টিমের দাবি। উপবৃত্তির ব্যাংক হিসাবটি অধ্যক্ষ একক স্বাক্ষরে পরিচালনা করেছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
অধ্যক্ষের দাবি, ওই হিসাব থেকে উত্তোলন করা ৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকা শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় কাজে ব্যয় করা হয়েছে। বর্তমানে ওই হিসাবে ১৬ লাখ টাকার বেশি জমা রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সরকারি প্রকল্পের ৫ লাখ টাকার হিসাব নিয়েও প্রশ্ন
অডিট-সংক্রান্ত নথিতে সরকারি প্রকল্পের অর্থ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৩ সালে পিবিজিএসআই প্রকল্পের ৫ লাখ টাকা অগ্রণী ব্যাংকের সীতাকুণ্ড শাখা থেকে উত্তোলন করা হয়।
ওই অর্থ কোন খাতে ব্যয় করা হয়েছে এবং তার বিপরীতে যথাযথ বিল-ভাউচার বা বিস্তারিত হিসাব রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
তবে ওই অর্থ আত্মসাৎ হয়েছে—এমন কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। তদন্ত কমিটি ব্যাংক রেকর্ড, প্রকল্পের নথি ও ব্যয়ের কাগজপত্র যাচাই করলে বিষয়টি স্পষ্ট হতে পারে।
‘ঋণ’ হিসেবে দেখানো ১ লাখ ৮৯ হাজার টাকা
২০১৮-১৯ অর্থবছরের ক্যাশবুকে ১ লাখ ৮৯ হাজার ৫৬৩ টাকা ‘ঋণ’ হিসেবে বিতরণ দেখানো হয়েছে। কিন্তু কারা ওই অর্থ নিয়েছেন, কী উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে, অনুমোদন কে দিয়েছেন এবং অর্থ ফেরত এসেছে কি না—এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র পাওয়া যায়নি বলে অডিট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফলে ওই অর্থের প্রকৃত অবস্থাও তদন্তের আওতায় আসছে।
সাদা কাগজে বিল-ভাউচার, হিসাবেও অসংগতি
ব্যয়ের বিল-ভাউচার নিয়েও একাধিক অসংগতির কথা উল্লেখ করেছে অডিট টিম। অনেক ভাউচারে অনুমোদিত স্বাক্ষর বা ভাউচার নম্বর নেই। কিছু ক্ষেত্রে সাদা কাগজে বিল তৈরি করে অর্থ পরিশোধের তথ্য পাওয়া গেছে।
কলেজ শাখার কয়েকটি বড় অঙ্কের ব্যয়ের ক্ষেত্রে বিক্রেতার বিল, ক্যাশ মেমো বা অন্য কোনো সমর্থনকারী নথি ছাড়াই অর্থ পরিশোধ দেখানো হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
এ ছাড়া ক্যাশবুক ও দৈনিক আদায়ের খাতায় সাদা কালি ব্যবহার করে টাকার অঙ্ক পরিবর্তনের অভিযোগও রয়েছে।
অডিট প্রতিবেদনে একটি উদাহরণ দিয়ে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ২ জানুয়ারি দৈনিক আদায়ের খাতায় ২ লাখ ৩ হাজার টাকা আয় দেখানো হলেও ক্যাশবুকে তা ১ লাখ ১৮ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। দুই নথিতে এই পার্থক্যের কারণও তদন্তে যাচাই করা হতে পারে।
পুরোনো সামগ্রী বিক্রির অর্থের হিসাব নেই
প্রতিষ্ঠানের পুরোনো পরীক্ষার খাতা, বাতিল কাগজ ও অন্যান্য পরিত্যক্ত সামগ্রী বিক্রি করে পাওয়া অর্থের হিসাব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এসব সামগ্রী বিক্রি করে পাওয়া অর্থের নির্ভরযোগ্য রেকর্ড অডিট টিম পায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
একইভাবে করোনা মহামারির আগ পর্যন্ত হোস্টেলে কতজন ছাত্রী ছিল এবং ওই সময়ের হোস্টেল আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব সংরক্ষণ করা হয়নি বলেও অডিটে উঠে এসেছে।
গুরুত্বপূর্ণ নথির ঘাটতি
অডিট প্রতিবেদনে আর্থিক লেনদেনের পাশাপাশি নথি ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কথাও বলা হয়েছে।
সরকারি উপবৃত্তির অর্থ ব্যয়ের হিসাব, সরকারি অর্থায়নে নির্মিত ভবনের কাগজপত্র, কম্পিউটার ও ল্যাপটপ গ্রহণসংক্রান্ত নথি, স্টক রেজিস্টার, সম্পদ নিবন্ধন খাতা এবং ছুটির রেজিস্টারসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি পাওয়া যায়নি বলে অডিট টিমের দাবি।
এতে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি প্রশাসনিক নথি সংরক্ষণ ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
তিন কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ
অডিট প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগের ভিত্তিতে অ্যাডহক পরিচালনা কমিটির সভাপতি ইফতেখার আহম্মদ অধ্যক্ষ মো. নাসির উদ্দিন, কলেজ শাখার সমন্বয়কারী খোরশেদ আলম এবং প্রধান অফিস সহকারী রোকসানা বেগমকে পৃথক কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন।
নোটিশে আর্থিক অস্বচ্ছতা, দায়িত্বে অবহেলা, পেশাগত অদক্ষতা এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি সংরক্ষণে ব্যর্থতার অভিযোগে কেন তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়।
অডিট টিমের ইনচার্জ এসএএম তাহের জামি বলেন, প্রতিষ্ঠানের আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নথি ও স্বচ্ছ হিসাবের ঘাটতি পাওয়া গেছে। বিশেষ করে উপবৃত্তির অর্থ উত্তোলন, ব্যাংকে জমা, ব্যয়ের ভাউচার এবং আয়-ব্যয়ের হিসাবে অসামঞ্জস্য রয়েছে।
পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি
অফিস আদেশ অনুযায়ী, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কর্ণনা রহমানকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম রহমান চৌধুরী, সীতাকুণ্ড বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. দিদারুল আলম, ক্যাপ্টেন শামসুল হুদা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মোবারক আলী এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইসমত আরা বেগম। তাঁকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।
কমিটিকে অভিযোগে উল্লিখিত বিষয়গুলো সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অনুমতিক্রমে কমিটিতে সদস্য কো-অপ্ট করার সুযোগও রাখা হয়েছে।
অধ্যক্ষের দাবি, ‘আমাকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে অডিট’
অভিযোগ অস্বীকার করে অধ্যক্ষ মো. নাসির উদ্দিন বলেন, তাঁকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে এসব অভিযোগ ও অডিট করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের কোনো অর্থ তিনি আত্মসাৎ করেননি বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, “আমাকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে এই অডিট করা হয়েছে। আমি প্রতিষ্ঠানের কোনো অর্থ আত্মসাৎ করিনি। এ বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিয়েছি।”
সম্ভাব্য আয় ও হিসাবভুক্ত আয়ের পার্থক্যের বিষয়ে তাঁর ব্যাখ্যা, ইএমআইএসে থাকা অনেক শিক্ষার্থী পরবর্তী সময়ে ঝরে পড়ায় তাঁদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফি আদায় করা সম্ভব হয়নি।
অডিট নিয়েও প্রশ্ন তুলে অধ্যক্ষ বলেন, প্রতিষ্ঠানের আর্থিক কার্যক্রম নিয়মিত দাপ্তরিক প্রক্রিয়ায় নিরীক্ষা করা হয় এবং আগের নিরীক্ষায় কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়নি। তাঁর দাবি, অ্যাডহক কমিটির উদ্যোগে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন করে অডিট করানো হয়েছে এবং সেখানে বাস্তবতার সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ কিছু বিষয়কে অনিয়ম হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
তাঁর এসব বক্তব্যের স্বতন্ত্র সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইউএনও বলছেন, সত্যতা মিললে ব্যবস্থা
সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। তদন্ত কমিটিকে সরেজমিনে অভিযোগগুলো যাচাই করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
তিনি বলেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মানববন্ধন, স্থানীয়দের উদ্বেগ
প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষা পরিবেশ নিয়ে স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যেও অসন্তোষের কথা জানা গেছে। বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে একপর্যায়ে মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করা হয়।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক-কর্মচারীদের একটি অংশের সমন্বয়ে একটি প্রভাবশালী বলয় প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করছে।
তবে এসব অভিযোগ স্থানীয় অভিভাবক ও আন্দোলনকারীদের বক্তব্যনির্ভর। তদন্ত ছাড়া এগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
এখন নজর তদন্ত প্রতিবেদনের দিকে
কুমিরা আবাসিক বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজের মতো একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ফি, সরকারি উপবৃত্তি, সরকারি প্রকল্পের অর্থ এবং অন্যান্য আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছ হিসাব থাকা জরুরি। অডিটে ৪৫ লাখ ৯৯ হাজার টাকার সম্ভাব্য আয়-হিসাবের পার্থক্য, ব্যাংকে তুলনামূলক কম অর্থ জমা, উপবৃত্তির অর্থ উত্তোলনের নথি-সংকট, সরকারি প্রকল্পের অর্থের ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন, অনিয়মতান্ত্রিক ভাউচার এবং গুরুত্বপূর্ণ নথির ঘাটতির মতো বিষয় উঠে আসায় প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
তবে হিসাবের অসংগতি পাওয়া এবং অর্থ আত্মসাৎ প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। অডিটে মূলত হিসাব ও নথির অসামঞ্জস্য চিহ্নিত হয়েছে। এসব অসামঞ্জস্যের কারণ কী, অর্থ কোথায় ব্যয় হয়েছে এবং কোনো ব্যক্তি বা কর্মকর্তার দায় আছে কি না—তা নির্ধারণ করবে তদন্ত কমিটি।
এখন পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটির কাছে ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ক্যাশবুক, চেক রেজিস্টার, বিল-ভাউচার, শিক্ষার্থীদের ফি আদায়ের রেকর্ড, ইএমআইএসের তথ্য, উপবৃত্তির নথি এবং সরকারি প্রকল্পের ব্যয়ের কাগজপত্র যাচাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেমন জরুরি, তেমনি অভিযোগের ভিত্তি না থাকলে সংশ্লিষ্টদের দায়মুক্তিও নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কারণ একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতা শুধু অর্থের হিসাবের বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে শিক্ষার্থী-অভিভাবকের আস্থা, শিক্ষক-কর্মচারীদের দায়িত্ব এবং সরকারি অর্থের জবাবদিহি।
অভিযোগের সত্যতা বর্তমানে তদন্তাধীন। তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পরই ৪৫ লাখ ৯৯ হাজার টাকার হিসাবের পার্থক্যসহ অন্যান্য অভিযোগের প্রকৃত কারণ ও দায় সম্পর্কে চূড়ান্তভাবে জানা যাবে।
📊
সংবাদ পরিসংখ্যান চার্ট