বন্দে মাতরম’ গানটিকে কেন্দ্র করে ভারতে নতুন করে এক রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে গানটির ব্যবহার ও স্তবক নিয়ে বর্ষীয়ান অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুরের সাম্প্রতিক এক বক্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী এবং ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) তারকা সাংসদ কঙ্গনা রানাউত শর্মিলার এমন দৃষ্টিভঙ্গিকে ‘সঙ্কীর্ণ ও সীমিত’ বলে তীব্র কটাক্ষ করেছেন তিনি
সম্প্রতি সংবাদ সংস্থা আইএএনএস-কে (IANS) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ‘বন্দে মাতরম’ গানটি নিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করেন শর্মিলা ঠাকুর তিনি বলেন, ভারতে অনেক ধর্মপ্রাণ মানুষ রয়েছেন যাঁরা একেশ্বরবাদে বিশ্বাসী ‘বন্দে মাতরম’ গানের কিছু স্তবকে বিভিন্ন দেব-দেবীর উল্লেখ থাকায় একেশ্বরবাদীদের জন্য ‘বন্দে কালী’ বা ‘বন্দে দুর্গা’ বলা কঠিন হতে পারে তাই ভারতের সকল ধর্ম ও বিশ্বাসের মানুষের কথা বিবেচনা করে গানটির প্রথম দুটি স্তবকই সবচেয়ে উপযুক্ত বলে মন্তব্য করেন তিনি
শর্মিলা ঠাকুরের এই বক্তব্যের পরেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করেন কঙ্গনা রানাউত তিনি লেখেন, কবিতা বা শিল্প নিয়ে শর্মিলা ঠাকুরের দৃষ্টিভঙ্গি কতটা সীমিত ও সঙ্কীর্ণ, তা দেখে একজন শিল্পী হিসেবে তিনি ভীষণ বিস্মিত হয়েছেন কঙ্গনার মতে, কবি বা শিল্পীরা কবিতা ও গানে কাঙ্ক্ষিত অনুভূতি প্রকাশ করতে রূপক ও উপমা ব্যবহার করেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘বন্দে মাতরম’ গানটি ছিল ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের হৃদস্পন্দন, যা দেশবাসীর অন্তরের শক্তিকে জাগ্রত করেছিল এমন মহান সৃষ্টিকে ধর্মীয় আচারের গণ্ডিতে দেখা অনুচিত
নিজের বক্তব্যের স্বপক্ষে স্বামী বিবেকানন্দের বিখ্যাত উক্তি উল্লেখ করে কঙ্গনা সবাইকে ‘হিন্দু-মুসলিম মানসিকতা’ থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি বলেন, একেশ্বরবাদে বিশ্বাস থাকলেও শক্তির ধারণাকে অস্বীকার করা যায় না পারস্পরিক ভালোবাসার বার্তা দিয়ে কঙ্গনা তাঁর পোস্টটি শেষ করলেও, তাঁর এই আক্রমণের বিষয়ে শর্মিলা ঠাকুরের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো পাল্টা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি