close

ভিডিও দেখুন, পয়েন্ট জিতুন!

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ২০ দিনের প্রচারণা শুরু, আচরণবিধিতে কড়াকড়ি ইসি’র..

Md Mamun Molla avatar   
Md Mamun Molla
মোঃ মামুন মোল্লা
গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ২০ দিনের প্রচারণা শুরু, আচরণবিধিতে কড়াকড়ি ইসি’র
মোঃ মামুন মোল্লা
গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে গণভোট। এ নির্বাচনকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে নির্বাচনি প্রচারণা।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রার্থীদের জন্য মোট ২০ দিনের প্রচারণার সময় নির্ধারণ করেছে। সে অনুযায়ী প্রার্থীরা আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত প্রচারণা চালাতে পারবেন।
নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে নির্বাচন কমিশন প্রার্থীদের জন্য কঠোর আচরণবিধি জারি করেছে। একই সঙ্গে সব প্রার্থী, রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্টদের আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে ইসি।
ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রার্থীরা বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারণা চালাতে পারবেন। তবে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে—এমন বক্তব্য, বিদ্বেষমূলক প্রচার ও প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—এবারের নির্বাচনে পোস্টার ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, যা দেশের নির্বাচনী ইতিহাসে প্রথম।
নির্বাচনি জনসভা ও সমাবেশ আয়োজন করা যাবে। তবে এসব আয়োজনের অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে জনসভার দিন, তারিখ ও সময় লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করে সভা-সমাবেশ করা যাবে না। সড়ক, মহাসড়ক ও জনপথে জনসভা বা পথসভা করলে নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা নেবে।
প্রার্থীর পক্ষে বিদেশে কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশ আয়োজন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রচারসামগ্রীতে পলিথিন ও রেকসিন ব্যবহারেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন। প্রতিটি বিলবোর্ডের দৈর্ঘ্য সর্বোচ্চ ১৬ ফুট ও প্রস্থ ৯ ফুটের বেশি হতে পারবে না। ব্যানার, লিফলেট, হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুন ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব প্রচারসামগ্রী সাদা-কালো হতে হবে।
ব্যানার: সর্বোচ্চ ১০ ফুট বাই ৪ ফুট
লিফলেট/হ্যান্ডবিল: এ-ফোর সাইজ
ফেস্টুন: সর্বোচ্চ ১৮ ইঞ্চি বাই ২৪ ইঞ্চি
প্রচারসামগ্রীতে প্রার্থীর প্রতীক ও নিজের ছবি ছাড়া অন্য কারও ছবি ব্যবহার করা যাবে না। প্রার্থীর ছবি হতে হবে পোর্ট্রেট আকারে এবং এর সর্বোচ্চ আয়তন ৬০ সেন্টিমিটার বাই ৪৫ সেন্টিমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থীরা কেবল দলীয় প্রধানের ছবি ব্যবহার করতে পারবেন।
নির্বাচনি প্রচারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করা যাবে। তবে প্রচার শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট পেজ, অ্যাকাউন্ট আইডি ও ই-মেইলসহ শনাক্তকরণ তথ্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হবে। এছাড়া অসৎ উদ্দেশ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আচরণবিধিতে ঘৃণাত্মক, মিথ্যা ও বিকৃত তথ্য প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নারী, সংখ্যালঘু কিংবা কোনো জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বা আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করা যাবে না। গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হলে তা নির্বাচনী অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
নির্বাচনি প্রচারে বাস, ট্রাক, নৌযান, মোটরসাইকেলসহ যান্ত্রিক বাহন নিয়ে মিছিল, শোডাউন কিংবা মশাল মিছিল নিষিদ্ধ। রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রে দলীয় প্রধান ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া অন্য কেউ হেলিকপ্টার বা আকাশযান ব্যবহার করতে পারবেন না। ভোটার স্লিপে প্রার্থীর নাম, ছবি বা প্রতীক উল্লেখ করা যাবে না। পাশাপাশি তোরণ নির্মাণ ও আলোকসজ্জাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির বিধান রেখেছে নির্বাচন কমিশন। কোনো প্রার্থী বা দল বিধি ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড, দেড় লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া হতে পারে। গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতাও ইসির হাতে রয়েছে।

No comments found


News Card Generator