ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরে ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েমের নেতৃত্বে দশ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সরাসরি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে। এই সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধি দলটি সরকারের প্রতি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় তিন দফা দাবি উত্থাপন করে, যা তাৎক্ষণিকভাবে সরকারকে কঠিন চাপের মুখে ফেলেছে।
ডাকসুর মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ওসমান হাদির ওপর হামলাকারী, হামলার পরিকল্পনাকারী এবং হামলায় সহযোগিতা প্রদানকারী সব সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে, গোয়েন্দা সংস্থাসহ রাষ্ট্রের যেসব অঙ্গ সংস্থা এই হামলার ঘটনায় গাফিলতি দেখিয়েছে, সেগুলোকে দ্রুত জবাবদিহিতার আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়েছে।
তবে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দাবিটি ছিল দ্বিতীয় দফায়। ডাকসু ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় গণপ্রতিরোধ কমিটি গঠনপূর্বক 'আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে চিরুনি অভিযান' শুরু করার জন্য সরকারকে আলটিমেটাম দিয়েছে। এই অভিযানে আওয়ামী লীগের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও তাদের কাছ থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের কথা বলা হয়েছে। এই আলটিমেটামটি এমন এক সময়ে দেওয়া হলো, যখন ডাকসু ভিপি আবু সাদিক কায়েম স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে পাশে রেখেই তাকে পদত্যাগের চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দেন।
তৃতীয় দাবিতে ডাকসু আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তারা দাবি জানিয়েছে যে, 'খুনি হাসিনা'কে (সাবেক প্রধানমন্ত্রী) দেশে ফিরিয়ে এনে তার বিরুদ্ধে থাকা রায় অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে। এই তিন দফা দাবি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।