বিএনপিকে বারবার ধ্বংস করার চেষ্টা হলেও আজ তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলটি ঘুরে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তার দীর্ঘ সংগ্রামী রাজনৈতিক ইতিহাসে নানা উত্থান–পতনের মুখোমুখি হয়েছে। কখনো রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকে দেশ পরিচালনা করেছে, আবার কখনো রাজপথে আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে দলকে টিকিয়ে রেখেছে। বারবার দলটিকে নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্র হলেও বিএনপি আজও টিকে আছে, এবং নতুন উদ্দীপনায় ঘুরে দাঁড়িয়েছে বলে দাবি করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার সকাল ১১টার দিকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মির্জা ফখরুল বলেন, “বিএনপিকে ধ্বংস করার নানান চেষ্টা করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শে আমরা বারবার নতুন শক্তি পেয়েছি। আজ তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এই দলই আগামী দিনে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের পথপ্রদর্শক হবে।”
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৭৮ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একদলীয় স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্রের ভিত্তি স্থাপন করেন। তার সেই পথ ধরে বিএনপি বাংলাদেশের সবচেয়ে বৃহৎ গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে গড়ে ওঠে। দীর্ঘ সাড়ে চার দশকের এই রাজনৈতিক যাত্রায় বিএনপি একদিকে ক্ষমতার স্বাদ পেয়েছে, অন্যদিকে আন্দোলনের মধ্য দিয়েও জনগণের সঙ্গে একাত্ম থেকেছে।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, “দীর্ঘ দেড় যুগ ধরে বিএনপি বিরোধী আন্দোলনের মধ্যে ছিল। আমাদের নেতাকর্মীরা ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে নির্যাতন, গুম, খুন, কারাবরণ—সবকিছু সহ্য করেছেন। কিন্তু তারা দমে যাননি, ভেঙে পড়েননি। জনগণের অধিকার ফিরিয়ে আনার সংগ্রামে অবিচল থেকেছেন।”
তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার ঐতিহাসিক গণ–অভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়, যেখানে বিএনপি প্রাণ ফিরে পায়। এই অভ্যুত্থান শুধু একটি সরকারের পতন নয়, বরং বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এক নতুন সূচনা।
বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে দলটির নেতাকর্মীরা তাই নতুন করে উদযাপন করছেন ভিন্ন আবহে। আগের মতো দমন–পীড়নের আতঙ্ক ছাড়াই এবার তারা উন্মুক্ত পরিবেশে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে। দলীয় মহাসচিব বলেন, “আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি—তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি শুধু ঘুরে দাঁড়াচ্ছে না, বরং আগামী দিনে দেশকে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও মনে করছেন, বিএনপির এই নতুন উত্থান বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে। দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার পর দলটি আবারও সংগঠিত হচ্ছে, নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হচ্ছেন। ভবিষ্যতের রাজনীতিতে বিএনপির ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন।
৪৭ বছর পূর্ণ করা বিএনপি এখন নতুন পথচলায়। নানা বাধা, নানা ষড়যন্ত্র পেরিয়ে তারা দাঁড়িয়েছে একটি নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে। সময়ই বলে দেবে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই উত্থান কতটা সফল হয় এবং বাংলাদেশ রাজনীতির মানচিত্রে বিএনপি কতটা শক্তভাবে নিজেদের জায়গা করে নিতে পারে।