বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, তারেক রহমান দেশে ফিরলেই নির্বাচনী প্রচারের অর্ধেক কাজ শেষ হয়ে যাবে। তিনি দাবি করেন, বিএনপির জন্য এটি হবে এক অবিস্মরণীয় ঐতিহাসিক ঘটনা।
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত এই নেতার দেশে ফেরার সম্ভাবনা ঘিরে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ মনে করেন, তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তনই হবে আসন্ন নির্বাচনী প্রচারণার মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মূল ঘটনা।
রোববার (৭ আগস্ট) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে জাতীয়তাবাদী আয়কর আইনজীবী ফোরামের এক আলোচনায় তিনি বলেন, “আমরা যদি নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই, তবে জনগণের কাছে যেতে হবে। সংসদীয় সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যেখানে জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে। আর তারেক রহমান দেশে ফিরলেই বিএনপির প্রচারণার কাজের অর্ধেক শেষ হয়ে যাবে।”
সালাহউদ্দিন আহমদ দাবি করেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হতে পারে। তার ভাষায়, “রমজানের আগের সপ্তাহে বা তারও আগে ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের প্রতিটি অঞ্চলে এখন নির্বাচনী আবহ তৈরি হয়েছে। যেসব মহল বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, তারা আসলে জাতিকে ভুল পথে নিতে চাইছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশ এখন নির্বাচনের পথে হাঁটছে।”
তিনি আরও বলেন, “তারেক রহমান যখন দেশে ফিরবেন, তখন বিএনপির জন্য এটি হবে এক অবিস্মরণীয় ঐতিহাসিক দিন। প্রচারণাই নির্বাচনের মূল প্রাণশক্তি। তারেক রহমান দেশে আসলে প্রচারণার অর্ধেক কাজ সারাদেশে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শুরু হয়ে যাবে। দলের কর্মীরা নতুন উদ্যমে মাঠে নামবে এবং জনগণের মাঝে এক ধরনের নতুন বিশ্বাসের জন্ম নেবে।”
বিএনপির এই শীর্ষ নেতা জোর দিয়ে বলেন, “তারেক রহমানের উপস্থিতিই আমাদের জন্য প্রমাণ করবে, পরিবর্তনের সময় এসেছে। জনগণ অপেক্ষা করছে সেই মুহূর্তের জন্য।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সালাহউদ্দিন আহমদের এ বক্তব্য কেবল দলের নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করতেই নয়, বরং সরকারের ওপর চাপ তৈরি করতেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কারণ, তারেক রহমান দেশে ফিরলে আইনগত জটিলতা তৈরি হতে পারে, তবে রাজনৈতিকভাবে বিএনপির কর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হবে, যা সরাসরি নির্বাচনী মাঠে প্রভাব ফেলতে সক্ষম।
বিএনপি নেতারা বরাবরই দাবি করে আসছেন, তাদের নেতা তারেক রহমানই দেশের মানুষের আস্থার প্রতীক এবং তিনিই জনগণকে নতুন দিকনির্দেশনা দিতে সক্ষম। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে, আইন অনুযায়ী দেশে ফেরার পর তাকে আদালতের মুখোমুখি হতে হবে।
তবে বিএনপির ভেতরে এখন যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে তা হলো— তারেক রহমানের দেশে ফেরা দলের জন্য নতুন অধ্যায় সূচনা করবে। প্রচারণায় প্রাণ ফিরবে, সংগঠন আরও গতিশীল হবে এবং নেতাকর্মীরা একযোগে মাঠে নামবেন। সালাহউদ্দিন আহমদের মতে, তখন নির্বাচনের অর্ধেক কাজ শেষ হয়ে যাবে বললেই চলে।
রাজনৈতিক অঙ্গন এখন দেখছে, বিএনপি কি সত্যিই তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে নির্বাচনী কৌশলকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে সক্ষম হয়, নাকি এটি কেবলমাত্র দলীয় নেতাদের মনোবল জোগানোর একটি রাজনৈতিক বক্তব্য।