সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল পেরু

Mamun Sorder  avatar   
Mamun Sorder
সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল পেরু
সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল পেরু
Peru erupts in massive Gen Z protests against President Dina Boluarte, demanding her resignation amid corruption scandals and unpopular pension reforms.

পেরু এখন এক ঐতিহাসিক আন্দোলনের মুখোমুখি। সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে লাতিন আমেরিকার এই দেশটি। তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে জেন-জেড নাগরিকরা, প্রেসিডেন্ট দিনা বোলুয়ার্তের সরকারের বিরুদ্ধে আবারও রাস্তায় নেমেছে। স্থানীয় সময় শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে অংশ নিতে হাজারো তরুণ রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরের রাস্তায় জমায়েত হয়।

এর আগে মাত্র এক সপ্তাহ আগেও রাজধানীতে এক বৃহৎ বিক্ষোভে পুলিশ ও প্রতিবাদকারীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে বহু পুলিশ সদস্য, আন্দোলনকারী এবং সাংবাদিক আহত হন। তবুও প্রতিবাদের ঢেউ থামেনি; বরং আরও জোরদার হয়েছে।

এই চলমান বিক্ষোভের সূচনা হয় ২০ সেপ্টেম্বর, যখন পেরুর সরকার পেনশন ব্যবস্থায় একটি বিতর্কিত সংস্কার আনে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে প্রতিটি নাগরিককে বাধ্যতামূলকভাবে একটি পেনশন প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হতে হবে। সরকার এই সিদ্ধান্তকে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য প্রয়োজনীয় বলে দাবি করলেও, সাধারণ জনগণ এটিকে মতামতহীনভাবে চাপিয়ে দেওয়া এবং আর্থিকভাবে ভার চাপানো একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, বিক্ষোভের পেছনে মূলত সরকারের প্রতি জনগণের দীর্ঘদিনের ক্ষোভই কাজ করছে। প্রেসিডেন্ট দিনা বোলুয়ার্তে ও কংগ্রেসের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সহিংসতাসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে। এসব ইস্যুতে জনগণের অসন্তোষ তীব্র হয়ে উঠেছে এবং সাম্প্রতিক পেনশন সংস্কার সেই ক্ষোভকে আরও উসকে দিয়েছে।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া তরুণরা জানিয়েছে, সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বে না। তাদের মতে, দেশের বর্তমান প্রশাসন জনগণের আস্থা হারিয়েছে এবং নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার সময় এসেছে। অনেকেই মনে করছেন, এই আন্দোলন শুধু একটি পেনশন নীতির বিরুদ্ধেই নয়, বরং এটি দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থার প্রতি একটি গভীর প্রতিবাদের বহিঃপ্রকাশ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, যদি সরকার জনগণের দাবিগুলো উপেক্ষা করতে থাকে, তাহলে এই বিক্ষোভ আরও সহিংস ও ব্যাপক আকার ধারণ করতে পারে। এমনকি এটি দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপরও গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।

বর্তমানে পেরুর পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন রয়েছে এবং যেকোনো ধরনের সহিংসতা এড়াতে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। তবে সরকারের কড়া অবস্থান এবং জনগণের অনড় দাবির কারণে দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

একটি বিষয় স্পষ্ট — পেরুর তরুণ প্রজন্ম এখন আর চুপ করে বসে থাকতে রাজি নয়। তারা চায় দুর্নীতিমুক্ত, জবাবদিহিমূলক ও জনগণের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল একটি সরকার। আর এই দাবিই আজ পেরুর রাজপথকে উত্তাল করে তুলেছে।

No comments found


News Card Generator