সীতাকুণ্ডে এনসিপির ঈদ পূর্ণমিলনী: সিস্টেম পরিবর্তন ও রাজনৈতিক সংস্কারের আহ্বান
এম জামশেদ আলম
সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি :
সীতাকুণ্ডে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আয়োজিত ঈদ পূর্ণমিলনী অনুষ্ঠানে বক্তারা দেশের বিভিন্ন খাতে সংস্কার, বিচার নিশ্চিতকরণ এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়েছেন।
সোমবার ২৩ মার্চ দুপুর ১২টায় সীতাকুণ্ড প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স রুমে উপজেলা এনসিপির উদ্যোগে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল হক এবং সঞ্চালনা করেন ফজলে রাব্বি চৌধুরী। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব সালেহ উদ্দিন সিফাত। বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব শাহরিয়ার হাসনাত তপু, এবি পার্টির সাবেক নেতা মোস্তফা নূর। এছাড়া ফারুক হোসেন ও ছাত্র সংগঠক ফাতিন মোহাম্মদ নিহালসহ এনসিপির পৌরসভা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সালেহ উদ্দিন সিফাত বলেন, এনসিপি একটি নবীন রাজনৈতিক দল হলেও এটি ইতিহাসের ধারাবাহিক আন্দোলনের চেতনা ধারণ করে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি ১৯৪৭ সালের দেশভাগ, ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা এবং ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদের পতনকে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বিচার ও সংস্কার এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হয়নি, অথচ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। বিচার ও সংস্কার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এনসিপির সংসদ সদস্যরা এ বিষয়ে সংসদে সোচ্চার থাকবেন।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং বিচারের আগে কোনো ধরনের পুনর্মিলন হতে পারে না। একইসঙ্গে সীতাকুণ্ডে মাদক সমস্যার কথা তুলে ধরে তিনি সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে তা প্রতিরোধের আহ্বান জানান এবং সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শাহরিয়ার হাসনাত তপু বলেন, দেশের প্রতিটি খাতে সিস্টেম পরিবর্তন জরুরি এবং এর জন্য জনগণের সচেতনতা অপরিহার্য। বিশেষ করে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন ও সেবার ঘাটতি রয়েছে। এছাড়া রাস্তাঘাটসহ অন্যান্য খাতেও ধাপে ধাপে উন্নয়ন ও সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বলেন, এখনো ফ্যাসিবাদের দোসররা সক্রিয় রয়েছে এবং তাদের প্রতিহত করতে এনসিপিকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। তিনি জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের স্মরণ করে বক্তব্য শেষ করেন এবং সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান।
এবি পার্টির সাবেক নেতা মোস্তফা নূর বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশ লুটেরাদের দখলে ছিল। তিনি সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন বাজারে ইজারা ব্যবস্থায় বিদ্যমান সিন্ডিকেট ভেঙে সব দলের অংশগ্রহণে লটারির মাধ্যমে ইজারা দেওয়ার প্রস্তাব করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা একটি গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।



















