সিরাজগঞ্জের তাড়াশে এক দুবাইপ্রবাসীর কেনা কৃষিজমি প্রতারণার মাধ্যমে নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মির্জা আব্দুর রব নামের এক দলিল লেখকের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে তদন্ত শেষে বিধি অনুযায়ী সিরাজগঞ্জ জেলা রেজিস্ট্রার শরীফ তোরাফ হোসেন এই প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন অভিযুক্ত দলিল লেখক মির্জা আব্দুর রব এবং ভুক্তভোগী দুবাইপ্রবাসী ফরহাদ আলী—উভয়ের বাড়ি তাড়াশ পৌর এলাকার কহিত গ্রামে
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, ফরহাদ আলীর বাবা নুরুল ইসলাম একজন ভ্যানচালক বসতবাড়ির সোয়া বিঘা কৃষিজমি বিক্রি করে তিনি ছেলেকে দুবাই পাঠান পরবর্তীতে প্রবাসী ফরহাদ আলী নিজের উপার্জিত অর্থ দিয়ে ২০২১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি কহিত মৌজায় ৭ লাখ ২৬ হাজার টাকায় দেড় বিঘা কৃষিজমি কেনেন কিন্তু জমি রেজিস্ট্রেশনের দায়িত্ব পাওয়া দলিল লেখক মির্জা আব্দুর রব ক্রেতার পরিবারের অজ্ঞতা ও সরলতার সুযোগ নিয়ে জমিটি প্রবাসীর নামে না করে চতুরতার সঙ্গে নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেন
পরবর্তী সময়ে জমির আসল দলিল নিয়ে গড়িমসি করা হলে ২০২৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর অন্য মাধ্যমে দলিলের নকল সংগ্রহ করে জালিয়াতির বিষয়টি জানতে পারে ভুক্তভোগী পরিবার জমির ভোগদখল প্রবাসীর পরিবারের কাছে থাকলেও ভূমি অফিসে নামজারি করতে গিয়ে তারা নিশ্চিত হন যে দলিলের মালিক দলিল লেখক নিজে এর প্রেক্ষিতে ২০২৬ সালের ১৯ এপ্রিল জেলা প্রশাসক ও জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন প্রবাসীর মা ফিরোজা বেগম অভিযোগের ভিত্তিতে শাহজাদপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মো. রবিউল ইসলাম সরেজমিন তদন্ত চালিয়ে প্রতারণার সত্যতা নিশ্চিত করেন এমনকি জমির মূল বিক্রেতারাও লিখিতভাবে জানান, তারা প্রবাসীর কাছেই জমি বিক্রি করেছিলেন
জেলা রেজিস্ট্রার শরীফ তোরাফ হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, নিরপেক্ষ তদন্তে জালিয়াতি প্রমাণিত হওয়ায় অভিযুক্ত দলিল লেখকের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে অন্যদিকে, সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, কেবল অভিযুক্তের লাইসেন্স বাতিল করাই শেষ কথা নয়, প্রকৃত মালিক যেন তাঁর প্রতারিত জমি দ্রুত ফেরত পান সেই আইনগত পদক্ষেপও নিশ্চিত করা হবে
সংবাদটির ওপর ভিত্তি করে তাৎক্ষণিক একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক কার্টুন তৈরি করুন।