সীতাকুণ্ড নির্বাচন অফিসে সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তি, উঠল ঘুষ দাবির অভিযোগ

M. JAMSHED ALAM avatar   
M. JAMSHED ALAM
সীতাকুণ্ড নির্বাচন অফিসে সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তি, উঠল ঘুষ দাবির অভিযোগ
সীতাকুণ্ড নির্বাচন অফিসে সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তি, উঠল ঘুষ দাবির অভিযোগ
📷 সংগৃহীত ছবি
সীতাকুণ্ড নির্বাচন অফিসে সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তি, উঠল ঘুষ দাবির অভিযোগ
আঞ্চলিক ভাষায় পড়ুন:

সীতাকুণ্ড নির্বাচন অফিসে সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তি, উঠল ঘুষ দাবির অভিযোগ

মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)

সরাসরি কেনাকাটা করুন
সবগুলো দেখুন
এম জামশেদ আলম,
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)
 
নতুন ভোটার নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা নিতে গিয়ে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও অতিরিক্ত নথি চাওয়া, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতি এবং সেবা পেতে ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাচন অফিসের বিরুদ্ধে।
সরেজমিন অনুসন্ধান এবং ভুক্তভোগী ও নির্বাচন অফিস-সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাচন অফিসে নতুন ভোটার নিবন্ধনের জন্য ২২ দফার একটি নির্দেশনা অনুসরণ করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের হাতে ওই তালিকা দিয়ে কমপক্ষে নয় ধরনের কাগজপত্র সংগ্রহ করে আনতে বলা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এসব অতিরিক্ত কাগজপত্র জমা না দিলে আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে না।
সেবাপ্রার্থীদের দাবি, ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, মা-বাবার জাতীয় পরিচয়পত্র, নাগরিক সনদ ও ভূমির খতিয়ানসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও নতুন করে বিভিন্ন নথি চাওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে যাদের মা-বাবার এনআইডি নেই, দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন বা বাবা-মা মারা গেছেন, তাদের জন্য নিবন্ধন প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে পড়েছে।
সেবাপ্রার্থী জহির বলেন, “সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সব কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও আবার নতুন কাগজ আনতে বলা হচ্ছে। একটি সাধারণ কাজ শেষ করতে বারবার নির্বাচন অফিসে যেতে হচ্ছে। অতিরিক্ত কাগজপত্র সংগ্রহ করতে না পেরে অনেকেই ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন করতে পারছেন না।”
সৈয়দপুর এলাকার বাসিন্দা সাব্বির জানান, তাঁর বোনের জাতীয় পরিচয়পত্র-সংক্রান্ত একটি সাধারণ কাজের জন্য দীর্ঘদিন নির্বাচন অফিসে যেতে হয়েছে। কাজের অগ্রগতি জানতে গেলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অসৌজন্যমূলক আচরণেরও শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অতিরিক্ত কাগজপত্রের অভিযোগের পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সেবাপ্রার্থীরা। বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে উপজেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান অফিসে উপস্থিত ছিলেন না। সহকারী নির্বাচন কর্মকর্তাকেও তাঁর কক্ষে পাওয়া যায়নি। এ সময় অফিসের বাইরে প্রায় ৫০ জন সেবাপ্রার্থী অপেক্ষা করছিলেন। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জানান, তিনি সলিমপুর এলাকায় ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে রয়েছেন। তাঁর দাবি, অফিসে সহকারী নির্বাচন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নারী সেবাপ্রার্থী অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি কাজের জন্য তিনি নির্বাচন অফিসে আসা-যাওয়া করছেন। কাজটি করে দেওয়ার কথা বলে তাঁর কাছে দুই হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে। টাকা দিলে কাজ হবে, না দিলে হবে না—এমন কথাও তাঁকে বলা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
অপেক্ষমাণ এক অন্তঃসত্ত্বা নারী বলেন, “আমি এ পর্যন্ত দুইবার এসেছি। প্রথমবার সকাল থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বসিয়ে রেখে কোনো কাজ না করেই ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আজ দ্বিতীয়বার এসেছি, আজ কাজ হবে কি না জানি না।”
অপেক্ষমাণ সেবাপ্রার্থীদের অভিযোগ, অফিস চলাকালে অনেক সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পাওয়া যায় না। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকে সেবা না নিয়েই ফিরে যান।
এ বিষয়ে সহকারী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন বলেন, “উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে গেছেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে আমি আবেদনপত্র গ্রহণ করছি। টাকা চাওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। যদি কেউ আমাদের অগোচরে টাকা চেয়ে থাকে এবং সেটি সাক্ষ্য-প্রমাণসহ প্রমাণিত হয়, তাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নাগরিক, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় সচেতন মহল নির্বাচন কমিশন এবং চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, ভোটার নিবন্ধনের মতো মৌলিক নাগরিক সেবা সহজ, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্তভাবে নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ওঠা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
খবরের সাথে চ্যাট করুন (AI Chat with the News)
Powered by AI
📋 ৩ লাইনে সারসংক্ষেপ
🔍 মূল কারণ ও প্রেক্ষাপট
👥 প্রধান ব্যক্তি/পক্ষ
⚡ প্রভাব ও পরিণতি
AI Assistant
নমস্কার/সালাম! আমি এই সংবাদের বিবরণটি পড়েছি। এই খবরের যেকোনো তথ্য জানতে আমাকে প্রশ্ন করুন।
এআই ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক কার্টুন (AI Satirical Cartoon)
Instant Caricature
Eye News Logo

সংবাদটির ওপর ভিত্তি করে তাৎক্ষণিক একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক কার্টুন তৈরি করুন।

No comments found


News Card Generator