রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রাকসু নির্বাচনের মনোনয়ন বিতরণ বন্ধ করে তালা ঝুলিয়েছিল ছাত্রদল। শিক্ষার্থীদের তীব্র প্রতিরোধে অবশেষে তালা ভেঙে আবার শুরু হয়েছে মনোনয়ন বিতরণ।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাসে রবিবার দুপুরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় রাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। সকালে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির দাবিতে রাকসু কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়ে ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এর ফলে সকাল থেকে মনোনয়নপত্র বিতরণের কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়।
ঘটনাটি দ্রুতই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করে। মনোনয়ন ফরম তুলতে আসা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কয়েকজন শিক্ষার্থী, যার মধ্যে সাবেক সমন্বয়ক সালাউদ্দিন আম্মারও ছিলেন, কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ে প্রবেশ করতে গেলে তালাবদ্ধ দরজার সামনে বাধার মুখে পড়েন। এ সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের ঘিরে ধরে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। মুহূর্তেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং ধস্তাধস্তিতে রূপ নেয়।
সকাল থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাত দুপুর নাগাদ আরও বিস্তৃত হয়। শিক্ষার্থীরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, তালা খুলে দিতে ছাত্রদলকে মাত্র ১০ মিনিট সময় দেওয়া হলো। কিন্তু ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা পিছু না হটায় বেলা সোয়া ১টার দিকে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে দরজার তালা ভেঙে ফেলেন। তালা ভাঙার সঙ্গে সঙ্গে ছাত্রদলের কর্মীরা প্রতিরোধের মুখে সরে যেতে বাধ্য হন।
কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীরা স্লোগান দিতে শুরু করেন। বাইরে আবারো মুখোমুখি অবস্থান নেয় ছাত্রদল ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। পাল্টাপাল্টি স্লোগানের পাশাপাশি একে অপরকে লক্ষ্য করে জুতা ও পানির বোতল ছোড়াছুড়ি চলে। উত্তেজনার মধ্যে বিকট শব্দে ছাত্রদলের মাইকও ভেঙে ফেলে আন্দোলনরতরা।
এ সময় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে মনোনয়ন সংগ্রহ করতে এলে ছাত্রদলের নেতারা আরও এক ধাপ পিছিয়ে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান ও ছাত্র উপদেষ্টা আমিরুল ইসলাম কনক现场 উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন।
প্রায় চার ঘণ্টা অচলাবস্থার পর অবশেষে দুপুর ২টার দিকে রাকসু কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ে আবারও মনোনয়ন বিতরণ শুরু হয়। শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং অন্যান্য সংগঠনের শিক্ষার্থীরা এসময় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। রাকসুর প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক সেতাউর রহমান সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন যে, মনোনয়ন বিতরণের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পুনরায় শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, সার্বিক বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব সাংবাদিকদের বলেন, “সকাল থেকেই নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, একটি সংগঠনের দাবির ভিত্তিতে প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি সম্ভব নয়। যখন তপশিল ঘোষণা করা হয়েছে তখন তারা ভর্তি হয়নি, সুতরাং তাদের ছাত্রত্বও ছিল না। তাই এই তপশিল অনুযায়ীই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, মনোনয়ন সংগ্রহের শেষ দিনে এ ধরনের সংঘাত নির্বাচনকে ঘিরে অস্থিতিশীলতা বাড়িয়ে তুলেছে। তবে কর্তৃপক্ষ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, নির্ধারিত সময়সূচি মেনে রাকসু নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা হবে।
রবিবারের ঘটনাপ্রবাহ প্রমাণ করেছে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে জোরজবরদস্তি মেনে নিতে প্রস্তুত নয়। তাদের একত্রিত অবস্থান ও কঠোর প্রতিরোধের কারণে ছাত্রদলকে পিছু হটতে হয়েছে। এখন প্রশ্ন রয়ে গেছে, আসন্ন নির্বাচনে এ ধরনের উত্তেজনা আবারো দেখা দেবে কি না।