রূপপুরে চুল্লিতে দেওয়া হলো ইউরেনিয়াম, অপেক্ষা পারমাণবিক বিদ্যুতের..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই চুল্লিতে ইউরেনিয়াম বসানোর মাধ্যমেই বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত ও প্রধান ধাপটি শুরু হলো।..

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ভূ-রাজনীতির ইতিহাসে আজ মঙ্গলবার এক অবিস্মরণীয় দিন হিসেবে খোদাই হয়ে রইল। পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের (আরএনপিপি) প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে (রিয়েক্টর কোর) সফলভাবে পারমাণবিক জ্বালানি বা ইউরেনিয়াম লোডিংয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশ হিসেবে পূর্ণাঙ্গভাবে আত্মপ্রকাশ করল বাংলাদেশ।

১. জ্বালানি লোডিং ও ঐতিহাসিক উদ্বোধন

মঙ্গলবার বিকেলে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে রূপপুর প্রকল্প এলাকায় এই জ্বালানি লোডিং কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই চুল্লিতে ইউরেনিয়াম বসানোর মাধ্যমেই বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত ও প্রধান ধাপটি শুরু হলো।

২. যেভাবে উৎপাদিত হবে বিদ্যুৎ

আরএনপিপি সূত্রে জানা গেছে, চুল্লিপাত্রে ইউরেনিয়াম বসানোর ফলে একটি নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিস্ফোরণ (ফিশন) ঘটে প্রচণ্ড তাপ তৈরি হবে। এই তাপ ব্যবহার করে পানিকে বাষ্পে (স্টিম) পরিণত করা হবে, যা বিশালাকার টারবাইন ঘুরাবে এবং সেখান থেকেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। বিদ্যুৎ বিশ্লেষকদের মতে, মাত্র ৪ গ্রাম ইউরেনিয়াম জ্বালানি প্রায় ৪১৭ লিটার ডিজেলের সমান শক্তি তৈরি করতে সক্ষম।

৩. বৈশ্বিক মাইলফলক ও মর্যাদা

রূপপুরে এই ‘ফুয়েল লোডিং’ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তিকে শান্তিপূর্ণ ও অর্থনৈতিক কাজে লাগানোর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেল। সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২৩ সালের অক্টোবরে বিদেশ থেকে জ্বালানি আসার পর রূপপুর ‘নিউক্লিয়ার ইনস্টলেশন’-এর মর্যাদা পেয়েছিল, আর আজ সেখান থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রত্যক্ষ কাজ শুরু হলো।

৪. নিরাপত্তা ও পরবর্তী ধাপ

পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রকল্প এলাকাকে ‘রেড জোন’ ঘোষণা করে কঠোর পাহারা বসানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এই পূর্ণাঙ্গ কাজ পরিচালিত হচ্ছে। সরকারের আশা, রূপপুরের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলে দেশের চলমান বিদ্যুৎ সংকট দূর করতে এটি একটি ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে কাজ করবে।

রূপপুর এখন আর কেবল একটি প্রকল্প নয়, বরং বাংলাদেশের সক্ষমতার এক অনন্য প্রতীক। নিরাপদ ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ নিশ্চিত করার এই যাত্রা আগামীর উন্নত বাংলাদেশ গড়ার পথে একটি শক্তিশালী ভিত্তি হয়ে থাকবে।

No comments found


News Card Generator