রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ২০ হাজার মেট্রিক টন চাল পাঠিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ২০ হাজার মেট্রিক টন চাল পাঠিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া..
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ২০ হাজার মেট্রিক টন চাল পাঠিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া..
South Korea has sent 20,000 metric tons of rice as humanitarian aid for Rohingya refugees in Bangladesh. The World Food Programme (WFP) will distribute the aid in the Cox’s Bazar camps.

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক সহায়তা হিসেবে ২০ হাজার মেট্রিক টন চাল পাঠিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)-এর মাধ্যমে এই চাল কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিতরণ করা হবে।

মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)

সরাসরি কেনাকাটা করুন
সবগুলো দেখুন

দক্ষিণ কোরিয়া সরকার বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য এক বড় মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। দেশটি বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)-এর মাধ্যমে ২০ হাজার মেট্রিক টন চাল পাঠিয়েছে, যা সরাসরি কক্সবাজারের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিতরণ করা হবে। সিউলে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, এই সহায়তা বাংলাদেশের রোহিঙ্গা সংকটে কোরিয়ার অব্যাহত মানবিক ভূমিকার প্রতিফলন।

দক্ষিণ কোরিয়ার কৃষি, খাদ্য ও পল্লী বিষয়ক মন্ত্রণালয় (MAFRA) গত ১ অক্টোবর গুনসান বন্দরে এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সেখান থেকেই ২০ হাজার মেট্রিক টন চালবাহী জাহাজ বাংলাদেশের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। অনুষ্ঠানটিতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের দূতাবাসের কাউন্সেলর তারাজুল ইসলাম, দক্ষিণ কোরিয়ার কৃষি মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ব্যুরোর মহাপরিচালক, জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (WFP) উপ-আঞ্চলিক পরিচালকসহ কোরিয়ার স্থানীয় সরকারের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।

অনুষ্ঠানে কাউন্সেলর তারাজুল ইসলাম রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার জন্য দক্ষিণ কোরিয়া সরকারকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, “বিশ্ব যখন মানবিক সহায়তার ঘাটতির মুখে, তখন কোরিয়ার এই সহায়তা নিঃসন্দেহে এক মহান উদ্যোগ।”

বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, এই সহায়তা শুধু ত্রাণ নয়—এটি একটি বার্তা, যা মানবিকতার পক্ষে দাঁড়ানো বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর ঐক্যের প্রতীক। বর্তমানে কক্সবাজারে প্রায় ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে, যারা জাতিগত নির্যাতন ও সহিংসতার কারণে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিনিধিরা জানান, তাদের সরকার রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে থাকবে। ভবিষ্যতে আরও খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তার পরিকল্পনাও রয়েছে। তারা বলেন, “মানবিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়া সর্বদা অবহেলিত জনগোষ্ঠীর পাশে থাকবে।”

অনুষ্ঠানে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে। কাউন্সেলর তারাজুল ইসলাম কোরিয়া সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের বিষয়ে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখে।

এই সহায়তা কেবল একটি খাদ্য চালান নয়—এটি দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি বন্ধুত্ব ও মানবিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে এই চাল বিতরণের পর হাজারো পরিবার অন্তত কিছুদিনের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ সরকার ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলো ইতোমধ্যে কোরিয়া সরকারের এই মানবিক পদক্ষেপকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছে। তারা মনে করছে, এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে একটি ইতিবাচক বার্তা পাঠাবে—যে মানবতা এখনো বেঁচে আছে, এবং দুঃখ-কষ্টের মধ্যেও সহমর্মিতা হারিয়ে যায়নি।

Hiçbir yorum bulunamadı


News Card Generator