close

কমেন্ট করুন পয়েন্ট জিতুন!

রাশিয়ার ড্রোন হামলায় ডুবে গেল ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় নৌযান ‘সিমফেরোপল’..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এক নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। এবার রাশিয়ার ড্রোন হামলায় ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় ও আধুনিক নৌযান ‘সিমফেরোপল’ ধ্বংস হয়ে সমুদ্রগর্ভে তলিয়ে গেছে। জাহাজটি উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি ও..

বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) এক বিবৃতিতে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ডানিউব নদীর ব-দ্বীপ এলাকায় সুনির্দিষ্টভাবে চালানো ড্রোন হামলায় ‘সিমফেরোপল’ ডুবে যায়। হামলার টার্গেট ছিল ওডেসা সীমান্তের নিকটবর্তী একটি কৌশলগত অঞ্চল।

বিবৃতিতে বলা হয়, জাহাজটি ছিল লাগুনা-শ্রেণির মাঝারি আকারের নজরদারি জাহাজ, যা রেডিও, রাডার, অপটিক্যাল ও ইলেকট্রনিক সিস্টেম দিয়ে আধুনিক পর্যবেক্ষণ চালাতে সক্ষম।

রুশ বার্তা সংস্থা তাস জানিয়েছে, এটি ছিল ইউক্রেনীয় নৌবাহিনীর জাহাজের বিরুদ্ধে রাশিয়ার প্রথম সফল সামুদ্রিক ড্রোন অপারেশন। এক ড্রোন বিশেষজ্ঞ তাস-কে বলেন, “এই আক্রমণ প্রমাণ করে রাশিয়ার ড্রোন প্রযুক্তি এখন স্থল ও আকাশের পাশাপাশি সমুদ্রেও কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।”

ইউক্রেনীয় নৌবাহিনীও হামলার বিষয়টি স্বীকার করেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কিয়েভ ইনডিপেন্ডেন্ট জানায়, হামলায় একজন নৌসেনা নিহত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

ইউক্রেনীয় নৌবাহিনীর এক মুখপাত্র বলেন, “আমাদের নৌবহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ ধ্বংস হয়েছে, তবে ইউক্রেনের প্রতিরোধ যুদ্ধ চলতে থাকবে।”

‘সিমফেরোপল’ নির্মিত হয় ২০১৯ সালে এবং ২০২১ সালে ইউক্রেনীয় নৌবাহিনীর বহরে যোগ দেয়। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই নজরদারি জাহাজকে ইউক্রেনের সামরিক সক্ষমতার একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচনা করা হতো।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, জাহাজটির ডুবে যাওয়া ইউক্রেনের নৌ সক্ষমতায় বড় ধরনের ধাক্কা। বিশেষত, কৃষ্ণ সাগর ও ডানিউব অঞ্চলে নজরদারি ও প্রতিরক্ষা কার্যক্রমে এর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাশিয়ার এই আক্রমণ শুধু ইউক্রেনীয় নৌবাহিনীর মনোবলকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে না, বরং যুদ্ধক্ষেত্রে শক্তির ভারসাম্যেও পরিবর্তন আনতে পারে। ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরে কৃষ্ণ সাগরে নৌ-চলাচল সুরক্ষিত রাখতে ‘সিমফেরোপল’-এর মতো জাহাজের ওপর নির্ভরশীল ছিল।

মস্কোর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আরও কয়েকটি কৌশলগত স্থানে ড্রোন আক্রমণ চালানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, কিয়েভ বলছে, রাশিয়ার এই হামলা আন্তর্জাতিক নৌচলাচল নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে।

कोई टिप्पणी नहीं मिली